Aaj India Desk, কলকাতা : আগামীকাল বঙ্গে প্রথম দফার ভোট। এর আগে গতকালই ফের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকেই বিপাকে ফেললো নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়, তবুও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে ?
কমিশনের (Election Commission) নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনও আবাসন কমপ্লেক্সে যদি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়, তাহলে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সেখানে “নন-ভোটার”দের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হবে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি আপাতদৃষ্টিতে তেমন ক্ষতিকর না মনে হলেও এই নিয়ম কার্যকর হওয়ায় কলকাতাসহ শহুরে জীবনে বহু বাসিন্দা ও পরিবারের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
এই নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবাসনের ভেতরে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ভোটাররাই থাকতে পারবেন। তবে কলকাতা সংলগ্ন এলাকা এবং অন্যান্য শহরের বহু আবাসনে এমন মানুষ থাকেন, যাদের ভোটার তালিকায় নাম অন্যত্র রয়েছে। কর্মসূত্রে স্থানান্তরিত হওয়া, ভাড়া থাকা বা ভোটার আইডি আপডেট না হওয়া জাতীয় নানা কারণে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে “ভোটার” হিসেবে চিহ্নিত নন।
একই পরিবারের সদস্য হলেও বহিরাগত ?
এই পরিস্থিতিতে একই পরিবারের সদস্য হয়েও কেউ ৪৮ ঘণ্টার জন্য “বহিরাগত” হয়ে যাবেন। অনেক পরিবারে গৃহকর্মী, কেয়ারগিভার বা সহায়ক কর্মী থাকেন, যাদের ভোটার তালিকায় নাম ওই ঠিকানায় নাও থাকতে পারে। নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় এই পরিষেবাগুলি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রবীণ ব্যক্তি ও পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অস্থায়ীভাবে থাকা অতিথি, ভাড়াটিয়া বা সদ্য স্থানান্তরিত বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ভোটার তালিকা আপডেট না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কীভাবে বিবেচিত হবে, তা স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, বাংলার নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা জোরদার করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে আলাদা করে এই ধরনের নির্দেশ কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে গিয়ে কমিশন (Election Commission) সাধারণ মানুষের মৌলিক বাসস্থানের অধিকার বা ব্যক্তিগত জীবনে অযথা হস্তক্ষেপ করছে বলে তাঁদের মত।


