Aaj India Desk, কলকাতা : আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। ভোটের ঠিক আগেই ২০ এপ্রিল একটি নির্দেশিকায় এই ভোটের উৎসবে মদের দোকান বন্ধের কথা জানানো হয়েছিল। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগের ৪৮ ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘ড্রাই ডে’ (Dry Day) থাকবে। এই সময়ে কোনও মদ বিক্রি, পরিবেশন বা বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুনর্নির্বাচন হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয় সেই নির্দেশিকায়। এই বার্তা প্রকাশের সাথে সাথেই সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
বর্ধিত ড্রাই ডে ?
প্রথম দিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মনে হলেও নির্দেশিকাটি আসলে জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ আবগারি দপ্তর। এরপর ফের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই দপ্তর কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৯৬ ঘণ্টার বর্ধিত ‘ড্রাই ডে’ (Dry Day) জারি করে। ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল এবং ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর পাশাপাশি, ভোট গণনার দিন ৪ মে তেও ‘ড্রাই ডে’ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র ২৪ এপ্রিল একদিনের জন্য দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অফলাইন দোকানের পাশাপাশি অনলাইন অ্যাপভিত্তিক বিক্রিও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত ?
আবগারি দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার সময় হঠাৎ করে মদের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বেঙ্গল এক্সসাইজ অ্যাক্ট, ১৯০৯ অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে, যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই বাংলা জুড়ে নানান হিংসাত্মক ঘটনা সামনে এসেছে। কমিশনের তীব্র নজরদারি সত্ত্বেও এই অশান্তির ঘটনায় নিরাপদ ভোট গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফলে সেই উদ্বেগ কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
কমিশনের সঙ্গে মতভেদ
তবে এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কমিশন অবগত না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “এই ধরনের কোনও নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দেয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” তিনি আরও জানান, আবগারি দপ্তর নিজেদের উদ্যোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেনো তা নিয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হবে। বিরোধীদের মতে, ইচ্ছাকৃত এভাবে রাজ্যে ‘জরুরি অবস্থা’ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা
অন্যদিকে এই ড্রাই ডে (Dry Day) সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মদ ব্যবসায়ী ও বার-রেস্তোরাঁ মালিকরা। শিল্পমহলের অনুমান, রাজ্যজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ ১৪০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। অনেক ব্যবসায়ীর মতে, যেসব এলাকায় ওই সময় ভোট নেই, সেখানেও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সকলেই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।


