Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: ঝাড়খণ্ডে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন এখন আর শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা বা একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়। বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিল, ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং নিয়োগে অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে জমতে এবার তা গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁরা আর বারবার পরীক্ষা দিতে চান না, বরং এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা চান যেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি মিলবে।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির মতো ঘটনাও নতুন করে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিবাদে প্রভাব ফেলেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, একজন পরীক্ষার্থী অন্তত জানতে চান তিনি নিজের অযোগ্যতার কারণে পিছিয়ে পড়েছেন, নাকি কোনও দুর্নীতি বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে সেই বিশ্বাসই ভেঙে পড়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু পরীক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। কেউ ফলের অপেক্ষায়, কেউ আবার নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন কি না, সেই দোটানায় রয়েছেন। অনেকেই সংসারের দায়িত্ব সামলে চাষের কাজ করেন, আবার রাত জেগে পড়াশোনাও চালিয়ে যান। তাঁদের কথায়, উন্নয়নের সুযোগ থেকে ঝাড়খণ্ডের সাধারণ যুবকদের দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদে বারবার উঠে এসেছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) সিজিএল পরীক্ষার প্রসঙ্গ। অভিযোগ, কখনও পরীক্ষা, কখনও ফল প্রকাশ, আবার কখনও অনিয়মের জেরে বাতিল একই চক্র বছরের পর বছর ধরে চলছে। পাশাপাশি টিডিপিএল সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত অভয় তিওয়ারির নাম এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ধারাবাহিক সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁদের মূল দাবি, টিডিপিএল পরিচালিত সব পরীক্ষার পুনর্বিবেচনা, অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত নিয়োগের তদন্ত, নির্দিষ্ট পরীক্ষার ক্যালেন্ডার, সময়মতো ফল প্রকাশ, স্বচ্ছ মূল্যায়ন এবং কাট-অফ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা। আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাত বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম যেন বিফলে না যায়, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ পান এটাই তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা।


