Aaj India Desk ,নয়াদিল্লি : সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বড় মোড় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী স্মৃতি সিং জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, তখন তিনি আর এই মামলা চালিয়ে যেতে চান না। তাই নাবালিকাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলাই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেই সিদ্ধান্তের কথা দিল্লি পুলিশ ও দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চকেও জানানো হয়েছে।
আট তরুণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রথম পদক্ষেপ হয় নয়ডার নাবালিকার বিরুদ্ধে
স্মৃতি সিংয়ের দাবি, ওই ঘটনার জেরে মোট আট জন তরুণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে নয়ডার এক নাবালিকার বিরুদ্ধে প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত ২৯ জুলাই নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। পরে ঘটনাস্থল দিল্লির মধ্যে পড়ায় মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায় ইচ্ছাকৃত অপমান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন বক্তব্য এবং মানহানির অভিযোগ আনা হয়।
কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-এক বার্তায় দেশের তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গালিগালাজ বা বিদ্বেষ কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। অল্প বয়সে ভুল হতেই পারে, তবে যারা বিভ্রান্ত হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখানোই বেশি জরুরি। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে আসার পর নয়ডার নাবালিকা-সহ অন্য অভিযুক্তরাও প্রকাশ্যে ভিডিও বার্তা দিয়ে ক্ষমা চান।
অভিযোগ প্রত্যাহারের পথে আইনজীবী, দিল্লি পুলিশকে জানানো হল সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই অভিযোগকারী আইনজীবী স্মৃতি সিং জানান, তিনি আর ব্যক্তিগতভাবে এই মামলাগুলি চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। তাই আইনি প্রক্রিয়া মেনে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমা করে দিয়েছেন, তখন মামলা টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
ভাইরাল ঘটনার পর থেকেই উধাও পরিবার, কোথায় তারা?
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নয়ডার সেক্টর ১৬৮-এর আবাসনে নাবালিকা ও তাঁর পরিবারের কাউকেই দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন নিরাপত্তারক্ষী ও আবাসনের কর্মীরা। তাঁদের কথায়, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই পরিবারটি জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দেয়। দিল্লি ও নয়ডা পুলিশের একাধিক দল ওই আবাসনে গিয়েও পরিবারের কাউকে খুঁজে পায়নি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পরিবারটি আপাতত ফরিদাবাদে আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
পুলিশি হয়রানির অভিযোগ বনাম নয়ডা পুলিশের বক্তব্য
নাবালিকার পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার পর তাঁদের পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও নয়ডা পুলিশ সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার দিনই নিয়ম মেনে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে তা দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
মায়ের আবেদন, এফআইআরে বয়স নিয়ে প্রশ্ন এবং নতুন দাবি
এর আগেই নাবালিকার মা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়েকে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বিক্ষোভে উপস্থিত অন্যদের প্রভাবে নাবালিকা ওই মন্তব্য করেছিল এবং পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমার বার্তা দেওয়ার পর তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ১০ থেকে ২০ বছর বয়সিদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে আরও নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার আবেদন জানান।
অন্যদিকে, পরিবারের আইনজীবীর দাবি, এফআইআরে নাবালিকার প্রকৃত বয়স উল্লেখ না করে ভুলভাবে ২৫ বছর লেখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাথমিক তথ্য যাচাই না করেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বিষয়টিও তদন্তের সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করেছে পরিবার।


