Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের (Rejinagar By-Election) আগে ফের গ্রেফতার হলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) দুই নেতা। সোমবার রাতে পুরনো একটি মামলায় তাঁদের গ্রেফতার করে রেজিনগর থানার পুলিশ। ধৃত দু’জন হলেন আনিসুর রহমান এবং সোহেল মণ্ডল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আনিসুর রহমান আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কোর কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি গোপালপুর এলাকায়। অন্যদিকে, সোহেল মণ্ডল দলের যুব ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর বাড়ি রেজিনগর এলাকায়। মঙ্গলবার ধৃত দু’জনকে বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হয়। তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ।
দলের নেতাদের একের পর এক গ্রেফতার করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) । তাঁর অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর আগে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছিল AJUP-এর আরও এক কর্মী হায়দার শেখকে। পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সোমবার প্রচার বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ ছিল, পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
গত শনিবার আগ্নেয়াস্ত্র ও জাল নোট-সহ গ্রেফতার করা হয় দলের রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল-সহ দু’জনকে। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় একাধিক গোলমালের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন নওদার AJUP ব্লক সভাপতি তথা রেজিনগর উপনির্বাচনের নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মণ্ডল ওরফে মদন।
পুলিশকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগেও গত শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় দলের ব্লক নেতা নাসিম শেখকে। আর হুমায়ুন কবীরের শক্তিপুর থানায় ধর্না চলাকালীন থানার সামনে অভব্য আচরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় দলের কর্মী হায়দার শেখকে। পরপর দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, বেআইনিভাবে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই অভিযোগ জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনেও ইমেল করেছেন তিনি।
এরই মধ্যে বিতর্কিত অডিও-কাণ্ডে সোমবার বহরমপুর থানায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন হুমায়ুন কবীর। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁকে একটি উস্কানিমূলক ফোন করা হয়েছিল। তবে তিনি সেই বক্তব্যকে কোনওভাবেই সমর্থন করেননি। তাঁর দাবি, প্রতিদিন বহু ফোন আসে এবং গুরুত্ব না দিয়ে তিনি ওই ফোনটি কেটে দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকেও তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন হুমায়ুন।
পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুনকে মোট ৬৩টি প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৪২টির উত্তর তিনি দিয়েছেন। বাকি প্রশ্নের উত্তর এবং তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে আবার থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


