Aaj India Desk,নয়াদিল্লি : তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসা ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে। অবশেষে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরই সামনে এসেছে নতুন রফাসূত্র।
জানা গিয়েছে , আপাতত কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ওই ২০ জন সাংসদদের বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের আপাতত সিটিজেনস পার্টির ব্যানারেই রাজনৈতিক কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কারণ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে যে গোষ্ঠী তৃণমূলের প্রতীক পাওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে, সেই মামলার ফলাফলের দিকেই নজর রাখছে বিজেপি নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রের দাবি, যদি নির্বাচন কমিশন ঋতব্রতদের হাতে তৃণমূলের প্রতীক তুলে দেয়, তাহলে বর্তমান আইনি জটিলতার অনেকটাই কেটে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে কাকলি, শতাব্দী, বাপি হালদার-সহ তৃণমূল ছেড়ে আসা সাংসদদের বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে। তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না বিজেপি। তবে সাংসদদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা থেমে থাকবে না। রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগ দেওয়া হবে এবং চলতি মাসের ১৮ বা ১৯ আগস্ট নবান্নে তাঁদের নিয়ে একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কদেরও ডাকা হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে সমন্বয় রেখে কাজ করা যায়।
বৈঠকে নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূল ছেড়ে আসা কয়েকজন সাংসদের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজনে পুলিশ এসকর্টের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে তাৎক্ষণিকভাবে বিজেপিতে যোগদানের সবুজ সংকেত না মিললেও ভবিষ্যতের রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং আদালতের পরবর্তী পর্যায়ের দিকে।


