Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: ই২০ (E20) পেট্রোল নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল কেন্দ্র। সংসদে লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী জানিয়েছেন, ইথানলবিহীন বা ‘বিশুদ্ধ’ পেট্রোলে ফিরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। একই সঙ্গে, বর্তমানে ই২০-র বাইরে ইথানলের মিশ্রণ ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।
সরকারের দাবি, নির্ধারিত সময়সীমার আগেই দেশে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে গড় ইথানল মিশ্রণ ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। পরের অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ সালে এই হার পৌঁছয় ১৯.২ শতাংশে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মিশ্রণ ২০ শতাংশ স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে, ই৮৫ জ্বালানি শুধুমাত্র ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ির জন্যই অনুমোদিত রয়েছে।
ই২০ পেট্রোল ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতি বা কর্মক্ষমতা নিয়ে যে আশঙ্কা রয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের বক্তব্য, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ির পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণেও ইথানলের কারণে ইঞ্জিন বিকলের কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে দেশে ২০ কোটিরও বেশি দু’চাকা এবং ৩ কোটির বেশি পেট্রোলচালিত গাড়িতে ই১৫+ ও ই২০ জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে। তবে ই১০-উপযোগী পুরনো গাড়িতে মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে সরকার স্বীকার করেছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, ই২০-র উচ্চ অকটেন মান ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স এবং চালানোর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সহায়ক।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির সুফলের কথা তুলে ধরেছে কেন্দ্র। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ইথানল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ১.৬৬ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলির পৃথক অভিযোগ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।


