Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগকে সামনে রেখে আগামী ২ জুন কলকাতার রানী রাসমণি রোডে ফের ধর্না কর্মসূচির ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে কলকাতা পুলিশের কাছে কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। ধর্না মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেও উপস্থিত থাকবেন।
কী দাবি তৃণমূলের?
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাদের কর্মী-সমর্থক, দলীয় কার্যালয় এবং নেতৃত্বের উপর হামলা হয়েছে। দলের দাবি, বহু কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুও ঘটেছে। এই অভিযোগগুলির প্রতিবাদেই ধর্না কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
সংখ্যার হিসাব নিয়ে ভিন্ন দাবি
তৃণমূলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম দাবি করেছে, নির্বাচনের পর ১০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং ৩,০০০-এর বেশি কর্মী-সমর্থক আক্রান্ত হয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা একটি মামলাতেও ২,০০০-এর বেশি সমর্থকের উপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে অন্যান্য সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কয়েকদিনে নিহতের সংখ্যা এবং আক্রান্তদের পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে ঘটনাগুলির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।
অনুমতির দিকে নজর
ধর্না কর্মসূচির জন্য কলকাতা পুলিশের অনুমতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ সিদ্ধান্ত নেবে। এটি ভোটের পরাজয়ের পর প্রথম প্রকাশ্য দলীয় কর্মসূচি যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে হাজির হবেন। ফলে অনুমতি মিললে এই কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থকের সমাগম হতে পারে।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর এবার বিরোধী আসনে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং রাস্তায় আন্দোলনের কর্মসূচি দুই পথেই ভোট-পরবর্তী হিংসার ইস্যুকে সামনে রেখে পুনরায় মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করতে চাইছে দল। ২ জুনের ধর্না সেই রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


