Aaj India Desk, কলকাতা : আরজি কর কাণ্ডের সময়ে ‘থ্রেট কালচার’ এর অন্যতম মাথা হিসেবে উঠে এসেছিল একাধিক নাম। বহু অভিযোগ, এফআইআর ও দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর। এবার তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলি ‘প্রমাণিত’ হওয়ার পরেই অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিনিয়র রেসিডেন্সি বাতিল করা হলো বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক এবং আরজিকর থ্রেট কালচারের অন্যতম মুখ, ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের (Birupaksha Biswas)।
কী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে?
২৯ মে জারি হওয়া স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে (Birupaksha Biswas) ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে অভিযোগের গুরুত্ব, বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা এবং তদন্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরই তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ অবিলম্বে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০ লক্ষ টাকা ফেরতের নির্দেশ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ইন্ডেমনিটি বন্ডের অধীনে সিনিয়র রেসিডেন্সি মাঝপথে বাতিল হওয়ায় তাঁকে বন্ডের অর্থ ফেরত দিতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি বছর ১০ লক্ষ টাকা হিসেবে দুই বছরের জন্য মোট ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও জানানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সরকারি নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন প্যাথলজিস্ট চিকিৎসক ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাস (Birupaksha Biswas)। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে থ্রেট কালচার চালানো, জুনিয়র ডাক্তারদের হুমকি দেওয়া এবং জোর করে টাকা আদায় ও অন্যান্য অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যদিও বর্তমান নির্দেশে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ না করে স্বাস্থ্য দপ্তর তদন্ত, এফআইআর এবং অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলাগুলির বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে।


