Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২১ দিন অনশনের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-কে পুলিশি নিরাপত্তায় সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছেই সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো চিকিৎসকদের কাছে স্পষ্ট অনুরোধ জানান, পরিবারের অনুমতি এবং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনমের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া যেন কোনও ওষুধ, ইনজেকশন বা স্যালাইন দেওয়া না হয়।
এক্স (X)-এ করা একটি পোস্টে গীতাঞ্জলি জানান, সোনমের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই আন্দোলন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনশনের ২০তম দিনে গীতাঞ্জলি যন্তর মন্তরে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি অনুরোধ করেছিলেন, শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে অনশন তুলে নিয়ে অন্যভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে। কিন্তু সোনম নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি। তাঁর স্পষ্ট জবাব ছিল, এই অনশনই তাঁর লড়াইয়ের পথ এবং তিনি সেই পথেই অটল থাকবেন।
গীতাঞ্জলি আরও বলেন, দিল্লির গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন অনশন করা অত্যন্ত কঠিন। তাঁর মতে, লাদাখের তুলনায় দিল্লিতে একই সময়ের অনশন শরীরের উপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে সোনমের। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছিলেন।
গত ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অনশনে সোনম শুধু নুন ও জল খেয়ে ছিলেন। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই তাঁর এই আন্দোলন। অনশনের মাঝেও তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, শরীর দুর্বল হলেও তাঁর মনোবল অটুট রয়েছে। এমনকি সংসদ অভিযানের ডাকও দেন তিনি।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার এখনও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আগেই আন্দোলনের সমালোচনা করেছিলেন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থার সমাধান করা উচিত। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও সোনমের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।


