Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ছাপ পড়ল লোকসভায় (LokSabha )। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) ছেড়ে একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দেওয়া ছয় সাংসদকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। একইসঙ্গে অধিবেশন কক্ষে তাঁদের জন্য আলাদা আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর সংসদে শিন্ডে শিবসেনার অবস্থান আরও শক্তিশালী হল বলেই মনে করছে অনেকে।
স্বীকৃতি পাওয়া সাংসদরা হলেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে, নাগেশ পাটিল আস্তিকার এবং ওমপ্রকাশ রাজে নিম্বালকর। তাঁদের যোগদানের ফলে লোকসভায় শিন্ডে শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ১৩-তে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের দলের সাংসদ সংখ্যা কমে হয়েছে মাত্র ৩। ফলে দুই শিবসেনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক লড়াইয়ে শিন্ডে শিবির আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছল।
এই দলবদলকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, দলভাঙন সংক্রান্ত সাংবিধানিক শর্ত পূরণ না হলে এমন সংযুক্তিকে বৈধ বলা যায় না। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রলোভন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও ওঠে। যদিও একনাথ শিন্ডে বারবার দাবি করেছেন, সমস্ত প্রক্রিয়া আইন ও সংবিধানের বিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। স্পিকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত সেই দাবিকেই কার্যত মান্যতা দিল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
নতুন এই সমীকরণের ফলে লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শক্তিও বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা এখন ৩১৮। অন্যদিকে, কংগ্রেস-সহ INDIA জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮১। অন্যান্য দল মিলিয়ে রয়েছেন ৪১ জন সাংসদ। বর্তমানে লোকসভার মোট কার্যকর সদস্য ৫৪০, কারণ তিনটি আসন এখনও শূন্য। ফলে ভবিষ্যতে কোনও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে কেন্দ্রের প্রয়োজন হবে ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন। একই সঙ্গে শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার)-কে পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে।


