Aaj lndia Desk, কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কার্যালয়ের একাংশ ভাঙাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
বারুইপুর-আমতলা রাজ্য সড়কের ধারে অবস্থিত ওই কার্যালয়ের একটি অংশকে বেআইনি নির্মাণ বলে দাবি করে প্রশাসন শনিবার বুলডোজার চালায়। ঘটনাস্থলে ছিল বিপুল পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্তারা।
এই পদক্ষেপের পরই ফিরে এসেছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র করা এক মন্তব্য। ডায়মন্ড হারবারের জনসভা থেকে মোদী অভিযোগ করেছিলেন, রাস্তার জায়গা দখল করে ওই কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। সে সময় শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি বিজেপি-শাসিত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ফলে সাত বছর আগের অভিযোগ এবং বর্তমান প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, সাংসদ কার্যালয় সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও অনুমোদন রয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অনেকের মতে, ডায়মন্ড হারবার দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একাধিক জনপ্রতিনিধির দলবদল, কয়েকটি আসনে বিজেপির উত্থান এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সব মিলিয়ে ডায়মন্ড হারবার এখন নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে।
আমতলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ফলে সাত বছরের পুরনো এক অভিযোগকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।


