নয়াদিল্লি: আরশোলাদের অন্যতম ‘শক্তি’ সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) কার্যত ‘অপহরণ’ করে ‘হাসপাতালে বন্দী’ করে রেখেছে দিল্লি প্রশাসন। তবে মনোবল না হারিয়ে আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ অভিযান ‘হবেই’ বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP protest)। রবিবার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর মাধ্যমে একটি হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ করে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান এবং শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করেছেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)।
গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিট সহ একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ১৩ ছাত্রের মৃত্যু, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি, একের পর এক সরকারি স্কুল বন্ধ সহ একাধিক অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ করছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP protest)। তাঁদের মূল দাবী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ! তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনশনে বসলেও ২১ দিনে দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যায়। আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP protest)।
তবে প্রত্যাশিতভাবেই সেই কর্মসূচি ঘিরে আগেই কড়া অবস্থান নিল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য, সংসদ অভিযানের জন্য সিজেপির তরফে কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি। এমনকি অনুমতি চাইলেও তা দেওয়া হবে না বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি যন্তর মন্তরে সিজেপির অনশন কর্মসূচিকেও অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
শনিবার দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি। তাঁর কথায়, সংসদ এবং তার সংলগ্ন এলাকা উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত হওয়ায় সেখানে কোনও মিছিল বা বিক্ষোভের (CJP protest) অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই যদি কোনও মিছিল সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে, তা হলে মাঝপথেই তা আটকে দেওয়া হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই যদি কোনও মিছিল সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা (CJP protest) করে, তা হলে মাঝপথেই তা আটকে দেওয়া হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এই অবস্থানের পর সোমবারের ঘোষিত সংসদ অভিযান আদৌ পরিকল্পনামাফিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, মহত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত পদযাত্রা করা হবে বলে বারংবার জানিয়েছেন মিছিলের উদ্যোক্তারা। এখন সংসদ অভিযানের ডাক, কিন্তু পথে পুলিশ! কী হতে চলেছে সোমবার? দেখিকেই নজর।


