Aaj India Desk, কলকাতা: দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর পর আবার কলকাতায় আসতে চলেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও (Suvendu Adhikari)।
তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর দাবিতে আগে থেকেই সরব ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করে তসলিমার নিরাপদে কলকাতায় ফেরার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই সময় শমীককে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তসলিমা।
তবে তাঁর কলকাতায় ফেরা নিশ্চিত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতে তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠনের কর্ণধার ওসমান গণি মল্লিক, যাঁকে তিনি একজন প্রগতিশীল মুসলমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তসলিমা লিখেছেন, “আমাকে বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে না, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও নিয়ে যাচ্ছে না। সরকার শুধু আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। আমি যে রাজ্যেই যাই, সেখানকার সরকারই নিরাপত্তা দেয়। এটা প্রশাসনের স্বাভাবিক দায়িত্ব।”তাঁর এই পোস্টের পর অনেকের মতে, তসলিমা আসলে তাঁর কলকাতা সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক কমানোর চেষ্টা করেছেন। যদিও এই বিতর্ক পুরোপুরি থামবে কি না, তা সময়ই বলবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তসলিমার কলকাতা সফর ভবিষ্যতের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদ ও হিন্দু নির্যাতনের প্রসঙ্গ বিজেপি আগেও রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করেছে। তাই তসলিমার উপস্থিতি সেই আলোচনাকে আবার সামনে আনতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, তসলিমা তাঁর পোস্টে কিছু বাম নেতার সমালোচনাও করেছেন। তিনি লিখেছেন, “কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন, আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি। তাঁরাই আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন। এখন আমি সেখানে গেলে আমাকে হিন্দুত্ববাদী বা বিজেপি-আরএসএস বলে প্রচার করা হচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর মাত্র দু’দিনের জন্য কলকাতায় যাচ্ছি। এতেই যদি কারও এত আপত্তি থাকে, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক।”


