32.2 C
Kolkata
Sunday, July 19, 2026
spot_img

মদ্যপ নন গেটম্যান, জানাল রেল! তদন্তের ফোকাস স্টেশন মাস্টারের দিকে?

 Aaj lndia Desk, মুর্শিদাবাদ:মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। প্রথমদিকে দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের গাফিলতিকেই দায়ী করা হলেও, এখন তদন্তের দিক কিছুটা বদলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া গেটম্যান অনুপ কর্মকার ডিউটির সময় মদ্যপ ছিলেন না বলে স্পষ্ট করেছে পূর্ব রেল। ফলে দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি ছিল কি না, সেই প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, মেডিক্যাল পরীক্ষায় অনুপ কর্মকারের শরীরে মদের উপস্থিতি মেলেনি। তাই শুধুমাত্র মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। একইসঙ্গে তিনি জানান, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। শুধু এই দুর্ঘটনাই নয়, পূর্ব রেলের অধীন সমস্ত নন-ইন্টারলক লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে সাত দিনের বিশেষ পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা পড়বে।

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনুপ কর্মকার দাবি করেছেন, নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার বার্তা পেলে তবেই তিনি গেট বন্ধ করেন। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কর্ণসুবর্ণ স্টেশন থেকে ডাউন ট্রেনের কোনও বার্তা তিনি পাননি।

তাঁর কথায়, খাগড়াঘাট থেকে অন্য একটি ট্রেন আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি রয়েছে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে ট্রেন চলে আসায় আর গেট নামানোর সুযোগ পাননি। যদিও তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার বা রেল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অসুস্থতার কারণে শনিবার আদালতে তোলা সম্ভব হয়নি অনুপ কর্মকারকে। প্রথমে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ফের আজিমগঞ্জ রেলপুলিশ থানায় ফিরিয়ে আনা হয়। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হতে পারে।

দুর্ঘটনায় আহত তিন শিশু আনিশা খাতুন, বিশ্বেশ্বর মণ্ডল ও শামিমা খাতুন এখনও চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের বক্তব্য, তিনজনের অবস্থাই আগের তুলনায় স্থিতিশীল। গুরুতর জখম আনিশার হাতে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। আহত পুলকার চালক সাহেব শেখেরও একটি অস্ত্রোপচার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হবে।

শনিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেলসুরক্ষা বাহিনীর আধিকারিকরা রেললাইন ও লেভেল ক্রসিংয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, রেলগেটের এক পাশ দীর্ঘদিন ধরে খোলা থাকায় শিশুদের অনায়াসে লাইনের উপর উঠে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য ওই অংশে দ্রুত স্থায়ী পাঁচিল বা সুরক্ষা বেড়া নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন