Aaj India Desk, কলকাতা: গত মার্চ মাসে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআর (SIR) নিয়ে সরব হয়েছিলেন কবীর সুমন (Kabir Suman)। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাংলায় ক্ষমতা বদলের পর হঠাৎই তাঁর গলায় ভিন্ন সুর শোনা গেল। সোজাসাপ্টা জানালেন, “আমি তৃণমূলের কেউ নই, এমনকি সমর্থকও নই।”
এতদিন ধরে অনেকের ধারণা ছিল, সুমন আর তৃণমূল (TMC) যেন একসঙ্গেই জড়িয়ে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই ধারণাতেই চিড় ধরেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-তাহলে কি তিনি নিজের অবস্থান পাল্টালেন? এক সাক্ষাৎকারে সুমন স্পষ্ট বলেন, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। সাংসদ হিসেবে আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতেই আমি নিজে থেকেই সরে যাই।”
অন্যদিকে, টানা প্রায় দেড় দশক রাজ্য শাসনের পর এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। ২০২৬ সালে প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। অতীতের ভোটের ইতিহাস বলছে, পরিবর্তনের সময় পুরনো সরকার প্রায় পুরোপুরি হেরে যায়-এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এই আবহেই সুমনের মন্তব্য আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা সব কাজ ঠিকভাবে করতে পারেননি। কিছু ক্ষেত্রে বড় ভুল হয়েছে। আমি যদিও এবারও তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছি, কিন্তু তাদের কাজকর্মে সন্তুষ্ট নই। বিশেষ করে চাকরির পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়েছে, যা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। দলের কিছু ব্যবহারেও মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে ভালো কাজও হয়েছে-যেমন সবুজসাথী প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীরা সাইকেল পেয়েছে, এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
একইসঙ্গে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, “সিপিএম হোক বা তৃণমূল-আগের সময় মেয়েদের নিরাপত্তা ছিল। নতুন সরকারও যেন সেই ধারাটা ধরে রাখে, এটাই আশা।” শেষে নিজের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে সুমন জানান, “এখন ভোট হলে হয়তো আমি আবার তৃণমূলকেই ভোট দেব। কিন্তু যদি কোনও শক্তিশালী কমিউনিস্ট দল সামনে আসে, তাহলে আমি বুড়ো বয়সেও তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। তাদের হয়ে কাজ করতেও রাজি আছি, এমনকি গানও বানাব।”


