27 C
Kolkata
Wednesday, May 6, 2026
spot_img

সরকার বদলাতেই বাতিল হওয়ার পথে স্বাস্থ্য সাথী ? মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল !

Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠনের আগেই শুরু হয়ে গেলো পুরোনো সরকারি প্রকল্প বন্ধ। রাজ্যের বহু বেসরকারি হাসপাতাল এখন ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi) কার্ডে রোগী ভর্তি নিতে অনীহা দেখাচ্ছে, ফলে ২০১৬ সালে মমতা নেতৃত্বাধীন সরকারের চালু করা এই প্রকল্প আজ প্রায় বাতিল হওয়ার মুখে।

সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বারা অর্থায়িত স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi) প্রকল্প বা রাজ্য-নির্ভর স্বাস্থ্যবিমার অধীনে প্রতি পরিবার হৃদরোগ জাতীয় ক্ষেত্রে বছরে আড়াই থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পেতে পারে। এটি সর্বজনীন হওয়ায় সমস্ত পরিবারই এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও অনেক রোগী অভিযোগ করেন যে কার্ড দেখানো সত্ত্বেও ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না বা অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। তার প্রধান কারন এই বেসরকারি হাসপাতালগুলির অনিচ্ছা। স্বাস্থ্য সাথীর বদলে প্রধানমন্ত্রীর আয়ুষ্মান ভারত যোজনা প্রকল্পেই তারা বেশি আগ্রহী।

বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলির মতে, হাসপাতালগুলির সঙ্গে পেমেন্ট ডিলে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হওয়ার ফলেই স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi) কার্ডের প্রতি তাদের আস্থা নেই। সরকারি নিয়ম অনুসারে ক্লেইম জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাসপাতালকে টাকা মেটানোর কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ৬০-৯০ দিন বা তারও বেশি সময় লাগে টাকা মেটাতে। কিছু অভিযোগে ২-৩ বছর পর্যন্ত বকেয়া জমার কথাও উঠেছে। এতে হাসপাতালের ক্যাশ ফ্লো বিঘ্নিত হয়, স্টাফের বেতন, সাপ্লায়ার পেমেন্ট আটকে যায়। ২০২২ সালে কলকাতার ১৬টি বড় হাসপাতাল যেমন AMRI, Woodlands, Apollo, Medica, Narayana যৌথ চিঠিতে জানিয়েছিল যে মোট বকেয়া প্রায় ১২৫-১৩০ কোটি টাকা। তারা রেট রিভিশন ও বকেয়া মেটানোর দাবি করেছিল। তবে সেই বকেয়া না মেটায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে। পাশাপাশি সরকারি প্যাকেজ রেট অনেক সময় হাসপাতালের আসল খরচের চেয়ে অনেক কম। একটি সাধারণ সার্জারির খরচ ৩০,০০০ টাকা হলে প্যাকেজে মাত্র ১০,০০০ টাকা ধরা হয়। হাসপাতালের পক্ষে উন্নত যন্ত্রপাতি, স্টাফ, ওষুধের খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তৃনমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন বেসরকারি হাসপাতাল কার্ড না নিলে লাইসেন্স বাতিল, শো-কজ, জরিমানার হুমকি দেওয়া হয়েছে বারবার। এই অবস্থায় নতুন সরকার আসতেই শেষমেষ কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নাজেহাল হাসপাতালগুলি। পরিবর্তে অন্যান্য রাজ্যের মতোই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্পের দিকে ঝুঁকেছে তারা।

উল্লেখ্য, বেসরকারি হাসপাতালগুলি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত যোজনা গ্রহণ করতে শুরু করে, তাহলে সাধারণ মানুষ বড় সমস্যার মুখে পড়বে। স্বাস্থ্য সাথী একটি সর্বজনীন প্রকল্প হলেও আয়ুষ্মান ভারত মূলত দরিদ্র শ্রেণির জন্য, ফলে অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। আবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ৫ লক্ষ টাকা মিললেও আয়ুষ্মান ভারতে সেই পরিমাণ মাত্র ৭০,০০০ টাকা। সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় নতুন সরকার গঠনের পর তারা কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন