Aaj India Desk, কোচবিহার: দলের ব্যাপকভাবে পরাজয় হয়েছে। যদিও এবার তিনি ভোটে টিকিট পাননি, তাই শুরুতে কিছুটা অসন্তোষ ছিল। কিন্তু দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কোচবিহারে গিয়ে তাঁকে কাছে টানায় সেই রাগ অনেকটাই কমে যায়। তবে এবার দলের এই খারাপ ফল হতেই কোচবিহারের প্রবীণ তৃণমূল (TMC) নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh) খোলাখুলি বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সমালোচনা করেন। পাশাপাশি বলেন, দলে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে একপ্রকার পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
অভিষেককে নিশানা করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল রাজ্য স্তরে দলটা যেন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে-একদিকে দিদি (মমতা), আর অন্যদিকে অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইতেন, যার ফলে মমতা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তিনি মনে করেন, যদি দিদি নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে হয়তো দল ক্ষমতায় থাকত। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষের মন বোঝার অভিজ্ঞতা অভিষেকের এখনও পুরো হয়নি। কর্পোরেট ধাঁচে দল চালাতে গিয়ে সবকিছু গুলিয়ে গেছে।
২০১১ সালের পর যারা দলে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অনেকের দিকেও আঙুল তোলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, এখন জেলা বা ব্লকে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের বড় অংশই আসলে পুরনো তৃণমূল কর্মী নন। সুযোগ বুঝে দলে ঢুকে ক্ষমতা নিয়েছেন। উদয়ন গুহর নামও তিনি উল্লেখ করে বলেন, এঁরা এসে সিন্ডিকেট চালু করেছেন।
দলের এই খারাপ অবস্থার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেদিন থেকে দল সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে, সেদিন থেকেই পতন শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই কর্পোরেট ধরনের রাজনীতি পছন্দ করেনি। এছাড়া সুব্রত বক্সির মতো অভিজ্ঞ নেতাকে প্রচারে না রাখা, সেটাও বড় ভুল হয়েছে বলে তাঁর মত।
দলকে আবার ঘুরে দাঁড় করাতে কী করতে হবে, সেই প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের স্পষ্ট বক্তব্য-দলের পুরো কাঠামো বদলাতে হবে। যারা বাইরে থেকে এসে দখল করে বসে আছে, তাদের সরিয়ে দিতে হবে। তবেই দল আবার শক্তিশালী হতে পারবে।


