কলকাতা: সোমবারই বিধানসভায় পাশ হয়েছে ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া বিল। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ‘ভুয়ো সার্টিফিকেট’ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার মুকুটমণিপুরে হুল দিবস উপলক্ষে জনসভায় শুভেন্দু বলেন, তৃণমূলের আমলে প্রচুর ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে। সেগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী স্যবস্ত হলে সার্টিফিকেট যিনি দিয়েছেন আর যিনি নিয়েছেন দুজনকেই জেলে পাঠানো হবে।
মুকুটমণিপুরের সভায় তিনি (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের কর্মসংস্থান ও সংরক্ষণের অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এই সরকার আদিবাসীদের কর্মসংস্থানও দিতে চায়। এই সরকার আদিবাসীদের যে সংরক্ষণ রয়েছে, সেটা দিতে চায়। বিগত সরকার আপনাদের সংরক্ষণ দেয়নি, অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কারণ তারা স্থায়ী চাকরি না দিয়ে কন্ট্র্যাকচুয়াল চাকরি দিয়েছে। সেইসব নিয়োগে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি।”
এরপরই ভুয়ো এসটি (ST) সার্টিফিকেট ইস্যুতে কড়া অবস্থান নেয় সরকারের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই রাজ্যে হাজার হাজার ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রী এবং দফতর প্রতিটি ভুয়ো সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। দোষী প্রমাণিত হলে যিনি সার্টিফিকেট দিয়েছেন এবং যিনি নিয়েছেন—দু’জনকেই জেলে পাঠানো হবে।” পাশাপাশি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “আদিবাসীদের জল, জমি, জঙ্গলের অধিকারের লড়াই প্রতিষ্ঠিত হোক।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজেপি সরকারের আমলেই আদিবাসীদের প্রকৃত উন্নয়ন হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর উদ্যোগেই সাঁওতালি ভাষা ও অলচিকি লিপি সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে।
শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, দেশের একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যে আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মন্ত্রিসভাতেও একাধিক আদিবাসী প্রতিনিধিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নেই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।


