Aaj India Desk, হুগলি : মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই জনতার হাতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হেনস্থা, ডিম ছোড়া, জুতোর মালা পরানো ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশের আবহ কাটতে না কাটতেই হুগলির সিঙ্গুরে (Singur) গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে ঘিরে মারধর ও প্রকাশ্যে অপমানের অভিযোগ সামনে এলো। আদালতের এমন উদ্বেগ সত্ত্বেও কেন জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা থামছে না তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এবং প্রাথমিক স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে সিঙ্গুরের (Singur) ব্লক–১ এলাকার বাগডাঙা চিনামোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অদ্বৈত দাস এবং তাঁর ছেলেকে রাস্তায় প্রকাশ্যে একদল স্থানীয় বাসিন্দা ঘিরে ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভ চলাকালীন উপপ্রধানকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর উপপ্রধানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়, জুতোর মালা পরানো হয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। তাঁর ছেলেও সেই হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি অদ্বৈত দাসের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থ বণ্টনে অনিয়ম, দুর্নীতি, ‘কাটমানি’ আদায় এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ হয়। এছাড়া অতীতে অদ্বৈত দাসের বিরুদ্ধে বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং তাঁদের উপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঠিক এই ঘটনাটির দিনই, ৩০ জুন কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনপ্রতিনিধিদের উপর ডিম ছোড়া, জুতোর মালা পরানো ও প্রকাশ্যে হেনস্থার একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ও পুলিশের কাছে বিস্তারিত অ্যাকশন-টেকেন রিপোর্ট তলব করে। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করলেও স্পষ্ট জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কার্যকর নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও রাজ্যকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা দিয়ে রাজ্যকে কার্যকর পদক্ষেপ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গুরে (Singur) উপপ্রধানকে ঘিরে এমন হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনিক সতর্কতার পরও কেন এ ধরনের ঘটনা রোখা গেল না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনরোষ মোকাবিলা এবং অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


