Aaj India Desk, কলকাতা : তৃনমূল সরকারের অবসান হওয়ার পর থেকে রীতিমত চাপে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একাধিক মামলায় নাম জড়ানোর পর আদালতের চত্বরে ঘুরপাক খেতে হচ্ছে তাঁকে। সম্প্রতি তিনি চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইলে সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় আদালত। এই পরিস্থিতিতে ফের ডবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বিরোধী রাজনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ তুললেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন ছিল। বিজেপির রাজনীতির কারণে সেই আইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আটক করা হচ্ছে এবং বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট : https://x.com/i/status/2071886420101525662
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক দল ভাঙার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বিধায়কদের দলবদলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং যারা তা মানছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে জেলেও থাকতে হচ্ছে। বিরোধী শূন্য রাজনীতি চায় বিজেপি।” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বিজেপি জনগণের সমর্থনেই রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করে থাকে, তবে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের প্রয়োজন কেন।
অন্যদিকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের একটি স্টিং অপারেশনে তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নগদ টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ক্যামেরায় ধরা পড়তে দেখা গিয়েছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।” এই দুই ঘটনাকে সামনে রেখে অভিষেকের প্রশ্ন, যে দল নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মুখ বলে দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্টকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বিরোধী রাজনীতিকে ঘিরে তাঁর তোলা অভিযোগ রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়িয়েছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।


