Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আরজি কর মামলায় (RG Kar Case) গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে শুনানির সময় তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি লটারি প্রতারণার মামলা (Lottery Fraud Case) যুক্ত করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ওই মামলায় নির্মল ঘোষকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। তবে আরজি কর সংক্রান্ত মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।
আরজি কর মামলায় দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে মোট ৯টি জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, নির্মল ঘোষের বয়স ৭৮ বছর। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবী।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আরজি কর মামলায় নির্মল ঘোষকে জামিন দেয় আদালত। পরে তাঁর আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, যে ধারাগুলিতে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলি সবই জামিনযোগ্য। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কোনও একটি সংস্থা যখন নির্দিষ্ট একটি ঘটনার তদন্ত করছে, তখন অন্য কোনও সংস্থা একই ঘটনায় আলাদাভাবে তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
এদিকে নির্মল ঘোষকে আদালতে তোলার আগে খড়দহ থানা এবং আদালত চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট, কাদা, ডিম ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এমনকি থানা থেকে বের করার সময় নির্মল ঘোষকে হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের আটকানো যায়নি। তাঁর দিকে জুতোর মালা ছোড়ার পাশাপাশি চড়-লাথি মারারও অভিযোগ ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ অগস্ট আরজি করের ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্যাতিতার মৃত্যুর রাতে শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে ব্যারাকপুরের সিপিকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করার কথা জানানো হয়।
এরপর নির্যাতিতার বাবা খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার এলাকার একটি হোটেলে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। পুলিশের নজর এড়াতে নিজের পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। পরে মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান শনাক্ত করে সিমুলিয়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় ওই হোটেলে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশ। সেখান থেকেই নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।


