Aaj India Desk, কলকাতা: শনিবার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়ায় প্রচার সভা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু সভা চলাকালীন হঠাৎ বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, কাছাকাছি এলাকায় বিজেপি (BJP)-এর পক্ষ থেকে জোরে মাইক বাজানো হচ্ছিল। সেই শব্দের জেরে সভায় বারবার বাধা পড়ে এবং বক্তব্য রাখতে সমস্যায় পড়েন তৃণমূল (TMC) নেত্রী। শেষ পর্যন্ত সভা সম্পূর্ণ না করেই রেগে গিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর নজরেও গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল বলেন, “এই বিষয়ে এখনই আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। যদি কোনও খারাপ ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই খারাপ। কী হয়েছে, তা DEO-র কাছ থেকে জানতে চাইব।” তাঁর এই মন্তব্যের পর কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য সভায় বাধা পড়ার পর মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও দেখছেন কীভাবে ইচ্ছে করে সভায় সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ সুরে আরও বলেন, “নির্বাচনের সময়ে কিছু নিয়ম থাকে, কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি। সবরকম প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েই আমি সভা করতে এসেছিলাম, তবুও জোর করে মাইক বাজিয়ে সভা বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে।”
মমতা আরও বলেন, “এই মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব? আমি প্রশাসনের সব অনুমতি নিয়েছি। ওরা জোর করে এটা করছে।” পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।” তিনি দাবি করেন, “ইচ্ছে করে ঝামেলার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “বুঝতে পারছেন, এটা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে।”
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পরে যখন বিজেপির সভা হবে, তখন তাঁরাও পাল্টা মাইক লাগিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন।” সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, “পুলিশ যদি বাধা দিতে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষ ও মহিলাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভবানীপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যেন আরো একধাপ বেড়ে গেল।


