27 C
Kolkata
Thursday, June 11, 2026
spot_img

স্কুলের ভিতরে ‘জনরোষ’! কীসের অপরাধে শিক্ষকের গলায় পড়ানো হলো জুতোর মালা ?

Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর : বিদ্যালয়কে ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী শিক্ষার মন্দির এবং শিক্ষককে মন্দিরের দেবতা মানা হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে (Daspur) সেই শিক্ষককেই স্কুলের ভিতরে জুতোর মালা পরিয়ে অপমান করা হলো। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে ঘিরে ঘটনাটি সামনে আসে।

ভাইরাল ভিডিওতে কী দেখা যাচ্ছে?

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দাসপুরের (Daspur) একটি স্কুলের ঘরে এক ব্যক্তিকে ঘিরে উত্তেজিত জনতার ভিড় তৈরি হয়েছে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই ব্যক্তি ওই স্কুলেরই শিক্ষক বলে জানান যায়। স্কুলে ঢুকে সেই শিক্ষককে জুতোর মালাও পরান জনতা। ভিডিওতে থাকা লেখা ও প্রচারিত দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে কী?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষকটি সক্রিয় ভাবে তৃনমূল কংগ্রেস করতেন। এই কারণে কিছু বিজেপি সমর্থক সহ সেখানকার সাধারন জনগন তাঁর উপর মারমুখী হয়ে ওঠেন। এমনকি ভিডিওটিতে জনগণকে বলতে শোনা যায়, জনগণের টাকা লুঠ করার জন্য দায়ী যে দল, সেই দলের প্রতিনিধিকে তারা এভাবে ছাড়বে না। তবে হঠাৎ কেনো একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এভাবে ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে পড়েন তারা, সেই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু জানায়নি পুলিশ। ঘটনার পর স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। ওই শিক্ষক জানান, রাজনীতির জন্যই তাঁর উপর হামলা করা হয়েছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বা কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করা একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার। কিন্তু সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা বা হেনস্থা করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শিক্ষক শিক্ষাদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেন। কোনও অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু জনরোষের নামে অপমান, হেনস্থা বা গণবিচারের প্রবণতা শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই ধরনের ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি আদৌ ভবিষ্যতে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে, নাকি ক্রমশ রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিহিংসার মঞ্চে পরিণত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন