Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির জনসভা থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “একটা গুলি চললে, দুটো গুলি চলবে। বাংলায় পুলিশ থাকলে, অসমেও পুলিশ রয়েছে।” উত্তরবঙ্গের মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে হিমন্ত দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সবসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করতেই ব্যস্ত থাকেন। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ‘রাম’ বা ‘দুর্গা’র নাম শোনা যায় না, সারাদিন শুধু মোদী ও শাহর নামই উচ্চারিত হয়। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, গত তিন দিন ধরে মমতা তাঁর নামও বলতে শুরু করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “তৃণমূল কর্মীরা আমার সামনে দাঁড়াতে পারবে না। লড়াই হলে সমানে সমানেই হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে নির্বাচনী আবহে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
হিমন্তের মন্তব্যের পাল্টা তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর চেয়ে খারাপ রাজনীতি আর হতে পারে না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন নীরব রয়েছেন।
জয়প্রকাশের আরও অভিযোগ, সাংবিধানিক পদে থাকা একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক বার্তা দেয়।ভোটের আবহে হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, উন্নয়ন ও জনস্বার্থের প্রশ্ন ছাপিয়ে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ, পালটা মন্তব্য এবং হুঁশিয়ারির রাজনীতিই বেশি করে সামনে আসছে।


