Aaj India Desk, বীরভূম : বঙ্গের প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার তুঙ্গে। এর মধ্যে দশ টাকার ঝালমুড়ির ঠোঙা যে সব প্রচারকে পিছনে ফেলে দেবে তা কে জানত ! রবিবার প্রচারের মাঝে ঝাড়গ্রামে (Jhargram) প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। গত এক মাস ধরে জেলায় জেলায় প্রচারের পর সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার প্রচার সেরে বীরভূমের সভা থেকে এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মোদীর ঝালমুড়ি ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
রবিবার ঝাড়গ্রামে (Jhargram) সভার ফাঁকে স্থানীয় এক বিক্রেতার কাছ থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খান প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিও তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। বিক্রেতা তাঁকে পেঁয়াজ খাবেন কিনা জিজ্ঞেস করায় ভিডিওতে তাঁকে বিক্রেতাকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, খাই, শুধু মাথা খাই না।” এরপর বিক্রেতা তার থেকে টাকা নিতে অস্বীকার করলেও জোর করে তাকে টাকা দেওয়ার চেষ্টাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘সাজানো ঘটনা’ বলে কটাক্ষ
এই সম্পূর্ণ ঘটনাকেই ‘পরিকল্পিত’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত ছিল। তিনি স্পষ্ট বলেন , “সবটাই সাজানো চিত্রনাট্য। ওঁর পকেটে কখনও ১০ টাকাও থাকে নাকি! কত নাটক! ঝালমুড়িও আগে থেকেই তৈরি করে রাখা, না হলে দোকানে আগে থেকেই ক্যামেরা বসানো থাকবে কেন?”
ঝাড়গ্রামে নিরাপত্তা জট নিয়ে অভিযোগ
পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ জানান যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ের কারণে ঝাড়গ্রামে (Jhargram) ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক কল্পনা সোরেনের হেলিকপ্টার নামার সুযোগ পায়নি। তৃনমূলের পক্ষ থেকে লেখা হয়, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ২ নেতাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে শেষমেশ তৃনমূলের কর্মসূচিতে যোগ না দিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।” এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
অন্যদিকে, একজন তৃনমূল কর্মী জানান, ওই ঝালমুড়ির দোকানটি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থসাহায্যে তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছে, যদি সত্যিই ওই দোকানটি আগে থেকেই রাজ্য সরকারের সহায়তায় তৈরি হয়ে থাকে, তবে সেটিকে ‘সেটআপ’ বলা কতটা যুক্তিযুক্ত?
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রচারের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা ও প্রতীকী ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি পর্ব হোক বা প্রচার মঞ্চের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনাই এখন নির্বাচনী বার্তায় পরিণত হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের আগে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


