Aaj India Desk,পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় ১৯ নং জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই হাসপাতালের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালের একাধিক বিভাগে।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে নেমে পড়েন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে আগুন নেভানোর সময়ই এক দমকলকর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপের কারণে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন বলে জানা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে রোগীদের সুরক্ষিতভাবে অন্য হাসপাতালগুলিতে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে অন্যত্র সরানো হয়, অন্যদেরও ধাপে ধাপে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় রোগীর পরিজনদের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা যায়।স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তাঁদের অনেকেই আগুনের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভিড় সরানোর চেষ্টা করে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না মিললেও, এমন একটি ব্যস্ত হাসপাতাল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। দমকলের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভানো ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


