Aaj India Desk,কলকাতা: ভোটের প্রচারের উত্তাপের মাঝেই ঝাড়গ্রাম-এ এক ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল। হঠাৎই নিরাপত্তার বলয় কিছুটা সরিয়ে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রাস্তার ধারের দোকান থেকে মাত্র ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খাওয়া, এমনকি পাশে দাঁড়ানো শিশুদের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়া এই দৃশ্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।অপ্রত্যাশিত এই ঘটনায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। অনেকেই এটিকে জনসংযোগের সরল ছবি হিসেবে দেখলেও, এর মাঝেই রাজনৈতিক রং খুঁজে পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)।তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা।
তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণেই নাকি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ।একদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ছবি, অন্যদিকে তারই ভেতরে রাজনৈতিক তর্ক ঝালমুড়ির এই ছোট্ট মুহূর্তই এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তবে ঘটনাকে ঘিরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ( All India Trinamool Congress)। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সফরের জেরেই ঝাড়গ্রাম-এ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের কর্মসূচি কার্যত আটকে দেওয়া হয়।তৃণমূলের অভিযোগ, হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক কল্পনা সোরেন-এর হেলিকপ্টার অবতরণের অনুমতি মেলেনি। নির্ধারিত সময়েই ঝাড়গ্রামে এসে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের।কিন্তু অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রশাসনের তরফে আর অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দুই নেতাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোনও সভায় অংশ না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
তৃণমূলের প্রশ্ন, এটা কি কেবলই ‘প্রটোকল’, নাকি রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত? এই অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার ভোটের ময়দান। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সফরে ‘জলখাবার বিরতি’ এবং ‘ফটো সেশন’-এর মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, অথচ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্মসূচি কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে।তৃণমূলের দাবি, এর ফলে শুধু রাজনৈতিক সৌজন্যই নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাংবিধানিক মর্যাদাও খর্ব হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, ঝাড়গ্রামে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি থাকলেও, বাস্তবে আদিবাসী নেতৃত্বকেই অসম্মান করা হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি আদিবাসী-বিরোধী মানসিকতার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তাদের প্রশ্ন ভোটের মঞ্চে এক বার্তা, আর বাস্তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ এই দ্বৈততা কি শুধুই কাকতালীয়?
এখন সব নজর ইভিএমে শেষ পর্যন্ত মানুষ কাকে বেছে নেন, তার উত্তর মিলবে ৪ মে।


