Aaj India Desk, কলকাতা: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-এর নজরে এবার আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ঋষিরাজ সিং (Rishi Raj Singh)। তাঁকে দিল্লির ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। একই মামলায় এর আগেই আইপ্যাকের আরেক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল (Vinesh Chandel)-কে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য যাচাই করতেই ঋষিরাজ সিং-কে তলব করা হয়েছে।
আইপ্যাক (I-PAC)সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। এই মামলায় সংস্থার তিন ডিরেক্টরই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঋষিরাজ সিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এবং সংস্থার নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ভিনেশ চান্ডিল, যিনি সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতাও, তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এবার ঋষিরাজকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। আজ সকাল ১১টায় তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপস্থিত হন কি না, সেদিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।
গত ২ এপ্রিল আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনকে দিল্লিতে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এরপর তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে তিনি জানান, নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় দিল্লিতে যাওয়া সম্ভব নয়, প্রয়োজনে কলকাতায় হাজিরা দিতে পারবেন। সেই মামলার শুনানি এখনও চলছে। আদালত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এরপর প্রতীক জৈনের পরিবর্তে তাঁর ভাই পুলকিত জৈন এবং স্ত্রী বার্বিকে তলব করা হয়। তবে তাঁরা হাজিরা দেননি বলে জানা গিয়েছে। প্রতীকের পরিবারের সদস্যদেরও তদন্তের আওতায় আনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে আইপ্যাকের কাজ ২০ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা। যদিও তৃণমূল এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তাঁদের দলের হয়ে কাজ করা সংস্থাগুলিকে বাংলা ছাড়তে চাপ দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, কেউ ভয় পেলে তাঁদের তৃণমূলের সঙ্গেই যুক্ত করা হবে এবং কোনও কর্মীকেই বেকার থাকতে দেওয়া হবে না।


