কলকাতা: নবান্নে শুক্রবারের বৈঠকে একদিকে SIR নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে দলগত একাধিক বিষয়ে আরও সময় চাওয়ার বার্তা। আর বৈঠক শেষে আপ্যায়নের মেনুতেও রীতিমতো চমক! ব্ল্যাক কফি, ফিস রোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ ও সন্দেশ। সব মিলিয়ে ‘আসল তৃণমূল’-এর ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক ঘিরে রাজনীতির পাশাপাশি চর্চায় নবান্নের ‘মেনু’ও।
X Link: https://x.com/ians_india/status/2085720556889120869
বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। দলগত ভাবে আরও একটি দিন চাওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। পাশাপাশি নাম তোলার জন্য ছয় মাস সময় চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু বৈঠকের আসল উত্তাপ অন্য জায়গায়
বৈঠক শেষে ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee) দাবী, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অবৈধ ভোটার থাকুক, সেটি তাঁরাও চান না। কিন্তু কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না পড়েন, সেটাই তাঁদের মূল দাবি।
তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই সাত লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এখনও বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি বলে তাঁদের বক্তব্য। এই মানুষদের জন্য হাই কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। আর এখানেই বৈঠকের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বাড়ছে। কারণ, নবান্নের আলোচনার টেবিলেই একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘সদিচ্ছা’র কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বৈঠক শেষে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
‘আস্থা না হলে রাস্তা দেখাবে’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে আন্দোলনের বার্তা। তিনি বলেন, তাঁরা শুধু রাস্তায় নামবেন না, আদালতেরও দ্বারস্থ হবেন। একই সঙ্গে ‘একুশে আইন’ কার্যকর না করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন, তা বাস্তবে কার্যকর হলে তাঁরা আস্থা রাখবেন বলেও জানান।
কিন্তু সেই আস্থা তৈরি না হলে?
ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee) কথায়, “না হলে রাস্তাই রাস্তা দেখাবে।” অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কোনও সহানুভূতি নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নাগরিক অধিকার যেন ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত না হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ট্রাইব্যুনালের দাবিও তুলেছেন তিনি।
আর এক বৈঠকের অপেক্ষায় মুর্শিদাবাদের দুই সাংসদ
এর মধ্যেই নবান্নে আর একটি সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মুর্শিদাবাদের দুই বিদ্রোহী এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমানকেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এলাকার উন্নয়ন এবং মসজিদের মাইক খোলার বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থাকায় তাঁরা শুক্রবার নবান্নে যেতে পারেননি।
আবু তাহের জানিয়েছেন, শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর সময় চাওয়া হচ্ছে। সময় পাওয়া গেলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। অর্থাৎ একই সময়ে একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণে সরগরম নবান্ন, একদিকে SIR নিয়ে ‘আসল তৃণমূল’-এর চাপ, অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের দুই সাংসদের সম্ভাব্য বৈঠক।
রাজনীতির টেবিলে এবার আসল প্রশ্ন
শুক্রবারের বৈঠকে একসঙ্গে উঠে এল SIR, নাগরিকত্ব, ট্রাইব্যুনাল, আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক সমঝোতার সময়সীমা। আর বৈঠক শেষে ‘ছয় মাস’ সময় চাওয়ার ঘোষণা সেই সমীকরণে যোগ করল নতুন মাত্রা।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর আপাতত বার্তা দ্বিমুখী আশ্বাসে আস্থা রাখার দরজা খোলা, আবার প্রয়োজনে আদালত ও রাজপথ, দুটির পথই খোলা। তাহলে নবান্নের ব্ল্যাক কফি-কালাকাঁদের আড্ডায় কি সত্যিই বরফ গলল, নাকি সামনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ‘মেনু’ তৈরি হল?


