Aaj India Desk, কলকাতা : SIR ঘিরে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের মতপার্থক্যকে হাতিয়ার করে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশি অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা।
মূলত দু’টি বড় দাবি তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমত, জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) পদ থেকে সরানোর দাবি করেন তিনি। CEC-এর বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, “এই চেয়ারটা ওঁর জন্য নয়”। CEC-কে সরানোর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও ফৌজদারি মামলা শুরুর দাবিও তোলেন তিনি। মমতার অভিযোগ, “উনি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন।”
এছাড়া SIR-এর আগের ভোটার তালিকায় ফের ভোটের দাবি করেন তিনি। যে সব রাজ্যে SIR-এর পর নির্বাচন হয়েছে এবং বিজেপি জিতেছে বলে মমতার অভিযোগ, সেখানে SIR-এর আগে থাকা পুরনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নতুন করে ভোট করানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন ভোটার সংযোজন, ভোটার বাদ দেওয়া, পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার IT পরিকাঠামো নিয়ে দুই কমিশনার আপত্তি তুলেছিলেন। এমনকি কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের অবগতির বাইরে নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা নথিভুক্ত আপত্তিতে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, কমিশনের দাবি, বহুসদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আলোচনার সময় ভিন্ন মত, প্রশ্ন বা পর্যবেক্ষণ সামনে আসা স্বাভাবিক। ECI জানিয়েছে, গত এক বছরে SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষেরও বেশি ভোটার পুনর্বহালের আবেদন করেছেন। কমিশনের দাবি, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট ভোটারের মতো কারণ যাচাই করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।ফলে SIR-এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।


