Aaj India Desk, কলকাতা : শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান সহ মোট ১০ জন বিধায়কের প্রতিনিধি। বৈঠকে এসআইআর ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো, ভোটারদের আবেদন সংক্রান্ত জটিলতা এবং ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক ও লাউডস্পিকার খোলার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই ইস্যুতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিরোধী শিবিরের নেতারা।
জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনালের দাবি
এসআইআর-পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে জোকায় একটি আঞ্চলিক ট্রাইব্যুনাল (SIR Tribunal) থাকায় প্রত্যন্ত জেলার মানুষের পক্ষে সেখানে গিয়ে শুনানি বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া কঠিন।
তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য জেলায় জেলায় এবং প্রয়োজনে ব্লক স্তরেও স্থানীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হোক। পাশাপাশি আবেদন জানানোর সময়সীমা অন্তত আরও ছয় মাস বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। ঋতব্রত বলেন, এই দাবি মানা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে।
‘২৭ লক্ষ মানুষ উদ্বেগে’
বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের দাবি, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, ভুয়ো বা বেআইনি ভোটারদের চিহ্নিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ নাগরিকের নাম যেন বাদ না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আখরুজ্জামানের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। তবে বিরোধী শিবিরের হিসাব অনুযায়ী, আরও প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এখনও প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারেননি। তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, নবান্নে এই বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের ‘বিজেপির বি-টিম’ বলে আক্রমণ করেন এবং তাঁদের রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপ বলে দাবি করেন। তবে কুণাল ঘোষের মন্তব্যের বিপরীতে বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ঋতব্রত শিবির। এখন এসআইআর ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ও আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার।


