Aaj India Desk, কলকাতা : কয়েক মাস আগেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ছিল এককভাবে প্রভাবশালী শক্তি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেই ছবিটাই বদলে যেতে শুরু করেছে। দলের অন্দরে মতভেদের জেরে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করে ভেঙে গিয়েছে দল। এই একই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে লোকসভাতেও। নিজস্ব সূত্র অনুযায়ী, সবমিলিয়ে মাত্র ৮ জন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকছেন। ফলে ফের সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন তৃনমূল নেত্রী।
কারা রয়েছেন ‘কোর গ্রুপে’?
বর্তমানে তৃণমূলের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ মালা রায়, বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলীয় সংকট মোকাবিলায় এই নেতারাই নেতৃত্বের পাশে সক্রিয়ভাবে রয়েছেন।
সৌগত রায়কে ঘিরেও আলোচনা ?
দমদমের সাংসদ সৌগত রায়কে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলাদা আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা অতীতেও বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি সরাসরি কোনও বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে তাঁকে অনেকেই স্বাধীন মতের নেতা হিসেবেই দেখেন।
কারা থাকতে পারেন বিদ্রোহী শিবিরে?
তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক লোকসভা সাংসদ ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। এই তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়, অসিত মাল, মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, জগদীশ বসুনিয়া, ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সোরেন, বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান, বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকারের নাম উঠে আসছে। এমনকি সূত্র অনুযায়ী, বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজনৈতিক যোগাযোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে গিয়েছেন।
সাংসদদের একাংশে বাড়ছে অসন্তোষ?
লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদদের একাংশই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ। সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, নেতৃত্বের ধরন এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশেষত দলের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবের কারণে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট তাঁরা। উল্লেখ্য, যদি ১৯ জন সাংসদ স্পিকারকে চিঠি দেন, তবে বিধানসভার মতো লোকসভায়ও আলাদা বিদ্রোহী দল গঠিত হবে। বর্তমানে বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে বেশিরভাগ সাংসদই বিদ্রোহী দলের নেত্রী হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম তুলে ধরছেন।
আগামী কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের সাংসদদের অবস্থান এবং দলীয় বৈঠকগুলির উপরই রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর থাকবে। লোকসভা দলের মধ্যে মতপার্থক্য কতটা গভীর এবং তা রাজনৈতিকভাবে কোনও বড় পরিবর্তনের দিকে এগোয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


