Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থনে ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের পর দিল্লি পুলিশ ও হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। তাঁদের দাবি, সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসার নামে তাঁকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এমনকি পরে মেদান্তা হাসপাতালেও আইসিইউর বাইরে কড়া পুলিশি উপস্থিতি ছিল এবং কে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন, তা পুলিশই নিয়ন্ত্রণ করছিল বলে অভিযোগ করেছেন গীতাঞ্জলি।
অনশন ভাঙার পর প্রকাশিত প্রায় ২৪ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) বলেন, হাসপাতালে তাঁকে এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যা তাঁর মতে কোনও সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি ছিল না এবং চারপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। ওয়াংচুকের কথায়, “ওটা কোনও হাসপাতাল ছিল না; ওটা যেন উওর কোরিয়ার একটা সেনাক্যাম্প বা জেলখানা। আমাকে যেভাবে রাখা হয়েছিল, তাতে কোনও বন্দিকেও হয়তো এভাবে রাখা হয় না।”
তাঁর বক্তব্য, “হাসপাতালে থাকার সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও আমার কাছে রাখতে দেওয়া হয়নি।” ফলে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে তাঁকে কাগজে লিখে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করতে হতো। এছাড়াও, লন্ডন থেকে দেখা করতে আসা আত্মীয় ও বন্ধুদেরও হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।
সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলিও দাবি করেন, সফদরজংয়ের পর মেদান্তা হাসপাতালেও মূল গেট, রিসেপশন, লিফট এবং আইসিইউর বাইরে বিপুল পুলিশ মোতায়েন ছিল। পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আদালত যদি স্পষ্ট করে জানিয়ে থাকে যে সোনম ওয়াংচুক আটক নন, তাহলে কোন আইনি ক্ষমতাবলে পুলিশ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ করছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সকালে যন্তর মন্তরে চলা অনশনস্থল থেকে সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) দিল্লি পুলিশ সরিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই সোনম ওয়াংচুকের এই অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও দিল্লি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।


