কলকাতা: কলকাতায় ছাত্রমিছিলে (NEET Protest) সাংবাদিকদের মারধোরের অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়! ‘৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে’, তাঁদের ‘গুন্ডাদমন আইনে’ এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে ‘তিন পুরুষ মন রাখবে’ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ মিছিলে কিছু ‘সমাজবিরোধী’ ঢুকে গণ্ডগোল পাকিয়েছিল বলে গোড়া থেকেই অভিযোগ তুলে আসছেন আন্দোলনকারীরা। এবার সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলল বাম ছাত্র সংগঠন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ মিছিলে (NEET Protest) পরিকল্পিতভাবে ‘বহিরাগত’ ঢুকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল। এমনকী, সাংবাদিকদের উপর হামলার নেপথ্যেও শাসকপক্ষের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, এনটিএ-র বিলুপ্তি এবং সংসদ অভিযান চলাকালীন পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মহামিছিলের (NEET Protest) ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি।
সেই মিছিলে ককরোচ জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সদস্যরাও যোগ দেন। মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল-জুতো ছোড়া হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও পদক্ষেপ করে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আক্রান্ত হন একাধিক সাংবাদিক ও চিত্র-সাংবাদিক।
ঘটনার পর বিবৃতি দিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, মিছিল চলাকালীন কয়েকজন বহিরাগত ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড়ে ঢুকে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে। তাদের সঙ্গে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের বচসাও হয়। অভিযোগ, সেই ব্যক্তিরাই পরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা চালায়। তাঁদের বাধা দিতে গিয়ে সংগঠনের কয়েকজন কর্মীও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি আহত সাংবাদিকদের দেখতে যান ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব। সেখানে এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা ও অশালীন আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা করছি। দুপুর থেকেই একদল ব্যক্তি মিছিলে (NEET Protest) ঢুকে গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছিল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে ছাত্রদের বিশাল জমায়েতের সুযোগ নিয়ে তারা সাংবাদিকদের পাশাপাশি আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের দিকেও ইট ছোড়ে। আমাদের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের ভূমিকা রয়েছে এবং পুলিশেরও নীরব ভূমিকা ছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মৌলালিতে বিজেপির একটি কর্মসূচি চলছিল এবং সেখান থেকেই কিছু ব্যক্তি মিছিলে ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করে।
কি বললেন শুভেন্দু?
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ছাত্র মিছিলকে (NEET Protest) ঘিরে পুলিশকে আগে থেকেই সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনওরকম বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ ছিল। মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসাব ছিল প্রায় ৯ হাজার মানুষ অংশ নেবেন। কিন্তু ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছনোর পর আচমকাই জুতো ও জলের বোতল ছোড়া শুরু হয়। তবুও পুলিশ সংযম দেখিয়েছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের আমি ধন্যবাদ জানাই।”
একইসঙ্গে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সবকটিতেই গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িত ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের কেউই ছাত্র নন। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ এবং মোমিনপুরের তনভির ইকবালের নামও উল্লেখ করেন তিনি। দোষীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে “এক পুরুষ নয়, তিন পুরুষ মনে রাখবে”, বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।


