Aaj India Desk,দক্ষিণ ২৪ পরগনায় :‘বাংলার বাড়ি’ (Banglar Bari) প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে রাজ্যে শুরু হওয়া উপভোক্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত যে সংখ্যক অযোগ্য উপভোক্তার খোঁজ মিলেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। এই জেলাতেই প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা রাজ্যজুড়ে শনাক্ত হওয়া মোট অযোগ্য উপভোক্তার বড় অংশ। ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার ব্লক থেকেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, গোটা রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার উপভোক্তাকে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অনেকের আগে থেকেই পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। কোথাও আবার বাড়ির মালিক হয়েও প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই অনিয়ম সামনে আসার পর প্রশাসন ইতিমধ্যেই ১১টি জেলায় টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে সরকারি অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপভোক্তার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, তৎকালীন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে রাজ্যের তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা দুই কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পান। এছাড়া আরও ১৮ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।
সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই যাচাই প্রক্রিয়াতেই এই প্রাথমিক তথ্য সামনে এসেছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিয়মের উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।


