Aaj India Desk, বীরভূম: ভোট শেষ হতেই বীরভূমের নানুরে মিলল চাঞ্চল্যকর ছবি। পশ্চিমপাড়ার একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হল একশোরও বেশি ভোটার কার্ড। স্থানীয়দের দাবি, কার্ডগুলি পূর্ব বর্ধমানের চিনিসপুর মল্লিকপাড়ার বাসিন্দাদের নামে ইস্যু করা। কীভাবে এত ভোটার কার্ড মাঠে এল, তা ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, অন্য জেলার এত ভোটার কার্ড নানুরের মাঠে এল কীভাবে? সেই সময়ই এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ঘটনাস্থলে এসে দাবি করেন, তিনি আগে ওই এলাকার বিএলও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সংশোধনের জন্য ভোটার কার্ডগুলি তাঁর কাছে এসেছিল। পরে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই কারণেই কার্ডগুলি আর জমা পড়েনি।
বিজেপির দাবি, কোনও বিএলও-র কাছে এভাবে ভোটার কার্ড পড়ে থাকার কথা নয়। সাধারণত কারও ভোটার কার্ডে সংশোধন হলে নতুন সংশোধিত কার্ডের সঙ্গে পুরনো কার্ডও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জমা থাকে। তাই এত সংখ্যক ভোটার কার্ড ব্যক্তিগতভাবে কেন রাখা হয়েছিল, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
ঘটনায় আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ওই প্রাক্তন বিএলও-র বক্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন, সংশোধনের জন্য আসা কার্ডগুলি তাঁর কাছেই ছিল। এমনকি এখনও তাঁর কাছে আরও কিছু কার্ড রয়েছে বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, কার্ডগুলি আর কোনও কাজে লাগবে না ভেবে বাড়ির বারান্দায় রাখা ছিল। সেখান থেকেই নাকি কুকুর মুখে করে ব্যাগ টেনে নিয়ে এসে মাঠে ফেলে দেয়। বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই পরিকল্পনা করে কার্ডগুলি সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ভোট মিটে যাওয়ার পর পুলিশি নজরদারি কড়া হতেই তড়িঘড়ি কার্ডগুলি মাঠে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বিধাননগরের বাসন্তী দেবী কলোনির ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫০টিরও বেশি আধার কার্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের সময় তাঁদের কাছ থেকে আধার কার্ড নিয়ে নেওয়া হত। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।


