Aaj India Desk,আরামবাগ: দীর্ঘদিন ধরেই হুগলির বিভিন্ন নদী ঘেঁষা এলাকায় বেআইনি বালি তোলাকে ঘিরে অভিযোগ উঠছিল। তবে প্রশাসনের তরফে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও পুরোপুরি নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছিল না।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ছবিটা যেন আচমকাই বদলে গিয়েছে। আরামবাগ,গোঘাট ও পুরশুড়ার একাধিক বালিখাদান এখন প্রায় জনশূন্য। আগে যেখানে দিনরাত ট্রাকের লাইন লেগে থাকত,এখন সেখানে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক নীরবতা।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই অধিকাংশ খাদানে কাজ বন্ধ। অভিযোগ,সরকারের লিজ নিয়ে যাঁরা এতদিন বালি তুলতেন, তাঁদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে রাস্তাঘাটে আগের মতো বালি বোঝাই ট্রাকও আর চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও অন্যদিকে বড়সড় সমস্যায় পড়েছে নির্মাণ ক্ষেত্র।
হুগলি ও হাওড়া জেলায় বালির জোগান হঠাৎ কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে সঙ্কট। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় কয়েক দিনের মধ্যেই লরিপিছু বালির দাম বেড়েছে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। বাড়ি তৈরির কাজ মাঝপথে থেমে যাচ্ছে, বাড়ছে নির্মাণ খরচও।
হুগলির আরামবাগ, গোঘাট ও পুরশুড়া এলাকা অনেকদিন ধরেই বালির জন্য পরিচিত। এই সব জায়গায় নদী থেকে প্রচুর বালি তোলা হতো। তবে অভিযোগ ছিল, নিয়ম মেনে যতটা বালি তোলার কথা, তার থেকে অনেক বেশি বালি বেআইনি ভাবে বাইরে পাচার করা হচ্ছিল। এই ব্যবসাকে ঘিরে বালি মাফিয়াদের দাপটও বেড়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেই লাভের ভাগ পেতেন তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতারাও। তবে এই বিষয় নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিল বিজেপি। ভোটের আগে আরামবাগে প্রচারে এসে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারে এলে বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বেআইনি বালি পাচার বন্ধ করা হবে।
সরকার বদলের পর সেই ছবিটাই এখন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। আরামবাগ মহকুমার বেশিরভাগ বালিখাদান এখন বন্ধ। আগে যেখানে সারাদিন বালি বোঝাই ট্রাক চলত, এখন সেখানে প্রায় শুনশান অবস্থা।
‘নো কস্ট টু এক্সচেকার’ প্রকল্পে নদী থেকে যে বালি তোলা হতো, সেই কাজও আপাতত বন্ধ রয়েছে। এই প্রকল্প নিয়েও আগে অনেক অভিযোগ উঠেছিল। গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, বাঁধ মেরামতির কথা বলা হলেও সেই কাজ ঠিকমতো করা হয়নি। উল্টে বেশি পরিমাণে বালি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে গ্রামের রাস্তারও ক্ষতি হচ্ছিল।এই নিয়ে একাধিকবার বিক্ষোভও দেখান স্থানীয় মানুষ। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের তরফে তদন্তও করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বালি পাচার বন্ধ হয়নি।
তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। এখন অধিকাংশ খাদান বন্ধ থাকায় বালির জোগান কমে গিয়েছে। ফলে হুগলি ও হাওড়া জেলায় বালির দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে বাড়ি তৈরির কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।


