Aaj India Desk, কলকাতা: নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা (NEET Re-Exam)-র ঠিক আগের দিন ফের দুই পরীক্ষার্থীর (Two Candidate) মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। আত্মহত্যা (Suicide) করেছেন দুই পড়ুয়া। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে প্রথম দফার পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর রবিবার পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তার আগেই পরপর এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ এবং পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের মিয়াপুর এলাকার ১৯ বছরের শেখ সানা রবিবারের পুনঃপরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর দুই বোনের সঙ্গে থাকতেন। বাবা শেখ জাফর হুসেন কাজের সূত্রে কুয়েতে থাকেন। আর মা প্রায় দশ দিন আগে প্রোড্ডাটুরে গিয়েছিলেন। শনিবার, অর্থাৎ পরীক্ষার আগের দিনই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ইংরেজিতে লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে লেখা ছিল, তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পড়াশোনার চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা এবং আগের ব্যর্থতার হতাশা মিলিয়েই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গান্ধী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বিজয়নগরের বাসিন্দা ২২ বছরের যতীন কুমারও আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘরের ভিতরে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেই সেই ভিডিওটি রেকর্ড করা হয়েছিল। সেখানে যতীন জানিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষা নিয়ে তাঁর কোনও চাপ ছিল না এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দেহও ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে লখনউয়ের বাজার খালা এলাকার ১৭ বছরের সুহানি যাদবের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে। পরিবারের দাবি, মে মাসে হওয়া নিট পরীক্ষায় ভালো ফলের আশা ছিল তাঁর। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সেই পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে আবার পড়াশোনা শুরু করলেও পুনঃপরীক্ষার চাপ সামলাতে পারেননি বলে পরিবারের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, মে মাসের নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে। রবিবারের পুনঃপরীক্ষার আগে একের পর এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু কঠিন প্রতিযোগিতা নয়, পরীক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপও বহু পড়ুয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।


