Aaj India Desk, কলকাতা : দলের ভিতরে অস্বস্তির গুঞ্জন যেন থামছেই না। একের পর এক নেতার পদত্যাগে যখন তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই নতুন ধাক্কা এল সংখ্যালঘু সংগঠনের শীর্ষ স্তরে। গৌতম দেব, প্রদীপ সরকার ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার দায়িত্ব ছাড়লেন সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি মোশারফ হোসেন (Mosharaf Hossain)। রবিবার নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ইস্তফার কারণ কী বললেন মোশারফ?
সাংবাদিক বৈঠকে মোশারফ হোসেন (Mosharaf Hossain) জানান, তাঁর মায়ের অসুস্থতা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের মতো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে না পারার কারণেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি ইতিমধ্যেই কালীঘাটের নেতৃত্বকেও জানিয়েছেন। মোশারফ বলেন, “রাজ্যের সরকার বদল হওয়ায় আগের মতো আর কাজ করতে পারছি না। মা অসুস্থ। কয়েকদিন আগে মক্কা থেকে ফিরেছেন। এই অবস্থায় বিধানসভাতেও নিয়মিত যেতে পারছি না। তাই সংখ্যালঘু সেলের দায়িত্ব রাখতে চাই না।”
ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের ইঙ্গিত ?
ইস্তফার পাশাপাশি মোশারফ হোসেন (Mosharaf Hossain) প্রকাশ্যে জানান, মমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ঋতব্রতপন্থী বলে জল্পনা চলছিল। রবিবারের মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার পাঁচ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে চার জন আগেই ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। এবার মোশারফের অবস্থানও কার্যত স্পষ্ট।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এবং রাজ্যে বিজেপি সরকারের কাজের প্রশংসাও শোনা যায় মোশারফ হোসেনের বক্তব্যে। তিনি বলেন, একসময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের দলের হয়ে উত্তর দিনাজপুরের পর্যবেক্ষক ছিলেন এবং সেই সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। মোশারফের কথায়, “এলাকার উন্নয়ন সবচেয়ে জরুরি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুক্রবার শুরু হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মোশারফ হোসেন। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই জল্পনা সরিয়ে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেন তিনি।


