রাঁচি: চাকরির পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির (Recruitment exam scams) অভিযোগ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। রাঁচিতে অনশন ও বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। পরিস্থিতির জেরে রবিবার ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, পড়ুয়াদের দাবির মুখে বিতর্কিত তিনটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে সরকার।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই মূলত এই আন্দোলন। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে (Recruitment exam scams)। তাঁদের দাবি, যতক্ষণ না গোটা প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হচ্ছে, ততক্ষণ বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল রাখতে হবে।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মূল তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তে CBI ও ED-কে যুক্ত করা, বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল করা এবং গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। এই দাবিতেই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ শুরু করেন ছাত্ররা। অনশনে বসেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।
এর মধ্যেই রবিবার সরকারের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, তিনটি পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে সরকারের তরফে সম্মতি মিলতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনও আর্থিক দুর্নীতির (Recruitment exam scams) যোগ রয়েছে কি না, সেটিও ED-কে দিয়ে খতিয়ে দেখার ব্যাপারে সরকারের সায় মিলতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, কয়েকদিনের ছাত্র আন্দোলনের পর এবার কি বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে ঝাড়খণ্ড সরকার? পরীক্ষাগুলি বাতিল হলে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত শুরু হলে নিয়োগ-প্রক্রিয়া ঘিরে আরও বড় কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
ছাত্রদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, শুধু পরীক্ষা বাতিল করলেই হবে না! যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এখন সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই দাবিগুলি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার। আপাতত অনশন-বিক্ষোভের জেরে ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment exam scams) ইস্যুতে বড়সড় মোড় আসতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।


