Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি: সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের দু’দিনের মধ্যেই জলপাইগুড়ির সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ভারতীয় চা শ্রমিককে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রায় ২০ জনের একটি দল চা-বাগান থেকে ৩৫ বছরের দীপঙ্কর গোপকে জোর করে তুলে নিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
চা-বাগান থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটেছে তাসার পাড়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জায়গাটি বিএসএফের চৌলহাটি আউটপোস্টের সীমান্ত বেড়া থেকে মাত্র প্রায় ১৫০ গজ দূরে। পরিবারের অভিযোগ, চা-বাগানে কাজ করার সময় আচমকাই কয়েক জন তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এরপর সংখ্যায় প্রায় ২০ জনের ওই দল দীপঙ্করকে জোর করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ঠিক কী কারণে তাঁকে অপহরণ করা হল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ‘প্রতিশোধ’?
দীপঙ্করের পরিবারের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দু’দিন আগের বিএসএফের একটি অভিযানের যোগ থাকতে পারে। চৌলহাটি সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছিল বিএসএফ। ওই ব্যক্তির আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের সঙ্গে যোগ থাকার সন্দেহও করা হয়েছিল। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের প্রতিশোধ নিতেই দীপঙ্করকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সামনে এসেছে ভিডিও, তবে সত্যতা যাচাই হয়নি
এরই মধ্যে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দীপঙ্করকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় জেলে থাকা তামিজউদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁকেও ছেড়ে দেওয়া হবে। ভিডিওতে কয়েক জন গ্রামবাসীর পাশাপাশি বিজিবি জওয়ানদেরও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এবং সেটি ঠিক কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীপঙ্করকে ফেরাতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক
ঘটনার খবর সামনে আসার পরই দীপঙ্করকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ শুরু করেছে বিএসএফ। শনিবার সন্ধ্যায় ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়। সেখানে দীপঙ্করকে দ্রুত এবং নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে শনিবার রাত পর্যন্ত দীপঙ্কর দেশে ফেরেননি। তিনি এখনও বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিএসএফের তরফে নিয়মিত বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি।
সীমান্তজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাসার পাড়া-সহ সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের এত কাছ থেকে একজন ভারতীয় নাগরিককে কী ভাবে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হল?
অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃসীমান্ত পাচার রুখতে বিএসএফের নজরদারির মধ্যেই এই ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন মূল লক্ষ্য, দীপঙ্করকে দ্রুত এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


