Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : গতকাল গভীর রাতে প্রায় ১১:৩০ নাগাদ ক্যানিংয়ের মিঠাখালী এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ক্যানিং-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রী উত্তম দাসকে (Uttam Das) আটক করে পুলিশ। SDPO-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিযানে অংশ নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
৪ মে (ভোট গণনার দিন) ক্যানিংয়ের দিঘিরপাড় গ্রামে বিজেপি কর্মী অর্ঘ্যদীপ বসুকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়। অর্ঘ্যদীপের ডান পায়ে গুলিও লেগেছিল বলে জানা যায়। সেই ঘটনার মদত দেওয়ার অভিযোগ করা হয় উত্তম দাসের উপর। এরপর উত্তম দাসের (Uttam Das) বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র আইন, মারধর, অপরাধমূলক প্ররোচনা, হুমকি ইত্যাদি একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলাও রুজু করা হয়।
আজ আলিপুর ক্রিমিনাল কোর্টের ৯ নম্বর এজলাসে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর মাননীয় বিচারপতি শ্রী উত্তম দাসকে (Uttam Das) নিঃশর্ত জামিন প্রদান করেন। পাশাপাশি মামলার তদন্তকারী আধিকারিক (I.O)-কেও আদালতের পক্ষ থেকে ভৎসনা করা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, গত ৪ঠা মে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ক্যানিংয়ের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। একাধিক নেতা-কর্মী ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—
একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কেন?
এটাই কি গণতন্ত্রের প্রকৃত চেহারা?
বিধায়ক পরেশরাম দাস এটাকে “অন্যায়” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নিঃশর্ত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শ্রী উত্তম দাস সাংবাদিকদের সামনে মুখ খুলতে চাননি।


