Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আমতলায় তাঁর দলের কার্যালয় (Amtala TMC Party Office) ভাঙার ঘটনায় ফের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সাংসদ ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর থেকেই তিনি সরব ছিলেন। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গও সামনে আনেন।
অভিষেকের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্ট উভয়ই বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে অসাংবিধানিক বলে মত প্রকাশ করেছে। অথচ সেই নির্দেশের গুরুত্ব না দিয়েই আমতলায় তাঁর কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি ভবন ভাঙার ঘটনা নয়, বরং আইনের শাসনকে অগ্রাহ্য করার উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এখনও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে। তাই এই ঘটনাকে তিনি আইনকে অবজ্ঞা করার সামিল বলে মন্তব্য করেন।
কার্যালয় থেকে সামগ্রী সরানোর ঘটনাও তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পুলিশ বাক্সভর্তি নথিপত্র, টেবিল, চেয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে তিনি শুধু উচ্ছেদ অভিযান হিসেবে মানতে নারাজ।
অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক অভিযান নয়; বরং পুলিশের পোশাকের আড়ালে অন্যায়ভাবে সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যাঁদের দায়িত্ব আইন রক্ষা করা, তাঁরাই যদি আইন ভাঙার কাজে যুক্ত হন, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, শনিবার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের কার্যালয় ভেঙে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদন ও নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিষেকের অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আইন না মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রতিপক্ষকে কড়া বার্তাও দেন তিনি। অভিষেক বলেন, আজ যে আইনের দোহাই দিয়ে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়, তবে একই আইনের আওতায় বিজেপির কার্যালয়গুলিও রেহাই পাবে না। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভিডিওতে যাঁদের মুখ দেখা গিয়েছে, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আইনের মাধ্যমে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি দাবি করেন।


