Aaj India Desk, কলকাতা : সম্প্রতি কলকাতার একটি বেসরকারি মিশনারি স্কুলে এক পড়ুয়ার কপাল থেকে বারবার চন্দনের তিলক মুছে দেওয়ার অভিযোগকে (Tilak Controversy) কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। নেট দুনিয়ায় সেই ঘটনা দ্রুত ভাইরাল হতেই এবং পড়ুয়ার অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাসপেন্ডও করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে FIR-ও দায়ের করা হয়েছিল। এবার সেই বিষয়টি নিয়েই প্রকাশ্যে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কী অভিযোগ উঠেছিল?
অভিভাবকের অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের এক শিক্ষিকা এক নাবালক পড়ুয়ার কপালে থাকা চন্দনের তিলক বারবার মুছে দিতেন। পরিবারের তরফে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় স্কুলের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে থানায় FIR দায়ের হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সমস্ত দিক এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। (Tilak Controversy)
‘এই মানসিকতা বরদাস্ত নয়’
এই ঘটনায় (Tilak Controversy) প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রীতিমতো রেগে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ তিলক, শিখা বা পৈতে। এগুলি পরতে না দেওয়ার মতো মানসিকতা বাংলার মাটিতে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য পালনের অধিকারকে কোনওভাবেই খর্ব করা যায় না। এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তবে ঘটনাটিতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই অন্যদিকে স্কুলের নিজস্ব আচরণবিধি ও পোশাক সংক্রান্ত নিয়মও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। কোনও নিয়ম থাকলে তা সকল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিয়ম দুইয়ের মধ্যে আইনি ও ন্যায্য ভারসাম্য বজায় ছিল কিনা সেটাও গুরুত্বপূর্ন।


