Aaj India Desk, কলকাতা : আর জি কর-কাণ্ডে একের পর এক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও একটি প্রশ্ন যেন থেকেই যাচ্ছে। কোথাও গিয়ে কি সরকারের দায়বদ্ধতার জায়গায় এখনও ফাঁক রয়ে গিয়েছে? ২০২৪ সালের সেই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠেছিল, এবার নতুন করে তা সামনে আনলেন অভয়ার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। তাঁর নিশানায় এবার তৎকালীন স্বাস্থ্য দফতর এবং প্রশাসনের শীর্ষস্তর।
রত্না দেবনাথের বক্তব্য, “কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এতদিন জেলে যাননি? কেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এখনও বাইরে? গ্রেফতারি তো চাই।” তাঁর দাবি, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে প্রশাসনের শীর্ষস্তরের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির কাছেও একই দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের পাশাপাশি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
এছাড়া ঘটনার পর হাসপাতালের একটি অংশে ভাঙার কাজ নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath) স্বাস্থ্যসচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, তিনি কেন অনুমতি দিলেন ওই ভাঙার দেওয়ালটা? দেওয়াল এবং বেসিন ভেঙে রাতারাতি তড়িঘড়ি কেন দ্রুততার সঙ্গে এটা করলেন?” তাঁর আরও দাবি, ১৪ আগস্ট হাসপাতাল চত্বরে যে ভাঙচুর হয়েছিল, তার ক্ষত এখনও পুরোপুরি সারানো হয়নি। অথচ ঘটনার পর দেওয়াল ও বেসিন ভাঙার কাজে কেন এত দ্রুততা দেখানো হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন বলে দাবি তাঁর।
স্বাস্থ্য দফতরের পৃথক তদন্তে ঘটনার রাতে হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক, ইন্টার্ন, কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে তৎকালীন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ কর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রত্না দেবনাথের (Ratna Debnath) দাবি, তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসচিব এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
আর জি কর-কাণ্ডে একাধিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই হয়েছে। মূল ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সঞ্জয় রায়। তবে হাসপাতাল প্রশাসন, প্রমাণ সংরক্ষণ, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং বৃহত্তর প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন এখনও রাজনৈতিক ও আইনি পরিসরে রয়েছে। রত্না দেবনাথের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই প্রশ্নগুলিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।


