Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮০ টি আসন পেয়ে ভরাডুবির পরেই তৃণমুল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে পাঁচ জন মুখপাত্রকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিল তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি।
কারা পেলেন শোকজ?
দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন পাঁচ জন মুখপাত্রের কাছে নোটিস পাঠিয়েছেন। যাঁদের শোকজ করা হয়েছে তাঁরা হলেন ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনূর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ। চিঠিতে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে।
নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে দলের কৌশল ও নেতৃত্বের একাংশের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণেই বাংলার মাটিতে তৃণমূলের বড় ধস নেমেছে। ফল প্রকাশের আগের রাত পর্যন্ত দলের সমর্থনে ও বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে বলতে থাকা ঋজু দত্ত ফল গণনার পরেই প্রকাশ্যে অভিযোগ জানান, তাঁকে এইসব বলতে বাধ্য করেছিল তৃনমূল কংগ্রেস (TMC)। এমনকি শোকজের পরেও বিদ্রোহীরা দমেনি। শোকজ পাওয়া নেতাদের মতে, তাঁরা শুধু সেই কথাগুলোই প্রকাশ্যে বলেছেন যা দলের বহু কর্মী-সমর্থক মনে মনে ভাবছেন।
প্রস্তুত বিস্ফোরক চিঠি
একাধিক মুখপাত্র ইতিমধ্যেই বিস্তারিত জবাবপত্র প্রস্তুত করেছেন। তৃনমূলের (TMC) দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই চিঠি গুলি। তাঁদের দাবি, দলের ভিতরের একাংশই তাঁদের বক্তব্যেকে সমর্থন করেছে। এমনকি বিদায়ী মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্যও নীরবে তাঁদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের কথায়, “চুপ করে থাকার সময় শেষ। এখন যা বলার স্পষ্ট ভাষাতেই বলা হবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শোকজ পর্ব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নির্বাচনী ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে বড় ফাটল তৈরি করেছে। যে সময়ে বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি এবং শপথ গ্রহণ নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময় তৃণমূলের অন্দরে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের বদলে দায় এড়ানো ও নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাত সামনে আসছে। এখন শোকজ হওয়া মুখপাত্রদের জবাব পাওয়ার পর দলীয় নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক দল।


