Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এলো বড় পরিবর্তন। ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে বছরে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হচ্ছে নতুন প্রকল্প ‘VB-G RAM G’। মঙ্গলবার হাওড়ার উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকের জোয়ারগড়ি গ্রামে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
নিজেই কাজে নামলেন মন্ত্রী
প্রকল্পের উদ্বোধনের দিন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) নিজে কোদাল হাতে নিয়ে নাচা খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তিনি জানান, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই VB-G RAM G, কেন্দ্রীয় আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার কাজ শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
কী কী কাজ হবে?
দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানান, এই প্রকল্পে দক্ষ, অর্ধদক্ষ এবং অদক্ষ সব ধরনের শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। রাস্তা নির্মাণ, খাল সংস্কার, শৌচাগার নির্মাণ, জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অন্যান্য গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজে শ্রমিকদের নিয়োগ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, “১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে গ্রামীণ এলাকার মানুষের আয় বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।” বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই এবং ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
কত টাকা বরাদ্দ?
মন্ত্রী দাবি করেন, প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তা, শৌচাগার এবং অন্যান্য গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজে আরও ১,৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর কথায়, প্রকৃত শ্রমিকদের প্রাপ্য নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসেরও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাস্তার ধারে হকার বসিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান।


