কলকাতা: নামে কলেজ, কিন্তু পরিকাঠামো কোথায়? কোথাও শিক্ষকের অভাব, কোথাও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতি! শিক্ষার নামে ডিগ্রি বিক্রির কারবার চলবে না! এই বার্তা দিয়েই এবার রাজ্যের বিএড কলেজগুলির (B.Ed College) বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ। ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ২০৫টি বিএড কলেজে আপাতত ছাত্র ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শুধু বিএড নয়, আইটিআই, ফার্মা ও পলিটেকনিক কলেজগুলিও রয়েছে সরকারের নজরে।
পরিদর্শনে বেরিয়ে এল একের পর এক গলদ!
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৬০০-র বেশি বিএড কলেজে (B.Ed College) পরিদর্শন চালানো হয়। প্রথম দফায় ১৫৬টি কলেজকে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, নির্ধারিত মান পূরণ করতে না পারায় ৪১৫টি কলেজকে ২১ দিনের শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনের পর ২৩৭টি কলেজকে ভর্তির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০৫টি কলেজ প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে সেখানে নতুন করে ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।
শুধু বিএড নয়, আইটিআই-ফার্মা কলেজেও কোপ!
সরকারি পরিদর্শনের আওতায় এসেছে অন্যান্য পেশাদার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। ২৬৫টি আইটিআইয়ের মধ্যে ১৪টির স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। ১৩৪টি ফার্মা কলেজের মধ্যে ৩৮টিতে আপাতত ভর্তি বন্ধ। ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানেও নতুন ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘শিক্ষার নামে দোকানদারি চলবে না!’
উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষাকে কোনওভাবেই পণ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। পরিকাঠামো, শিক্ষক এবং পঠনপাঠনের মানের সঙ্গে আপস করা হবে না। তবে যে বিএড কলেজগুলি (B.Ed College) মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি, তাদের এখনই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় উন্নতি করলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ফের ভর্তির অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ শুধু কলেজের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আর চলবে না! শিক্ষক তৈরির প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে থাকতে হবে উপযুক্ত পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান। এবার প্রশ্ন, যে পড়ুয়ারা এই কলেজগুলিতে ভর্তির আশায় ছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? আর যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও মানোন্নয়ন করতে পারেনি, তারা কি আগামী শিক্ষাবর্ষের আগে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? বাংলার শিক্ষক তৈরির কারখানায় এবার সত্যিই শুরু বড়সড় ঝাড়াই-বাছাই!


