29 C
Kolkata
Friday, April 24, 2026
spot_img

ভাতা নিচ্ছেন? জানেন এর জন্য কি হতে পারে?

SPECIAL FEATURE

ভারতবর্ষের রাজনীতি এই মুহূর্তে ভাতা (Allowance) নির্ভর। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 2021 সালে প্রথম চালু করেন লক্ষ্মীর ভান্ডার । প্রকল্পের আওতায় ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে মহিলাদের কিছু অর্থ মাসিক ভাতা (Allowance) দেওয়া শুরু হয় । প্রকল্পটি শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এর সমালোচনা শুরু করে দেয় কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় ভোটের ফলে এর বেশ প্রভাব পড়ে।

বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ফের ক্ষমতায় আসেন মমতা । কালক্রমে দেখা গেলো যে ভাতার (Allowance) রাজনীতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । সাম্প্রতিক কালে সমস্ত রাজ্যেই ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে সেখানকার সরকার । এমনকি এই বছর বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহারে প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলই ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । অভিযোগ পাওয়া গেছে বিজেপির পক্ষ থেকে আগাম অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম বিলি করার।  এই অবস্থায় প্রশ্ন জাগে ভারতবর্ষের অর্থনীতি কি সত্যিই এতটা শক্তিশালী যে এত ভাতার (Allowance) ভার বহন করতে পারবে। নাকি আসলে তা অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে?

বাস্তব চিত্র

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে রাজ্যগুলির ভর্তুকির বোঝা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ১২টি রাজ্য লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত মহিলাদের নগদ অর্থ প্রদানের প্রকল্পের (Allowance) জন্য বছরে প্রায় ১.৬৮ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যা কিনা ভারতের মোট জিডিপির (GDP) প্রায় ০.৫ শতাংশ।কিএবং এই টাকা দিয়ে কোনো অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হচ্ছে না। অর্থাৎ এই অর্থ দিয়ে নতুন কোনো প্রকল্প বা উন্নয়ন হচ্ছে না।

এর ফলে দেখা যাচ্ছে রাজ্যগুলিতে ২০২৫ অর্থবর্ষে মোট ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৪.৭ লক্ষ কোটি টাকা হয়ে গেছে ।এবং প্রতি বছর এই ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ হারে। ফলে রাজ্যগুলির ঋণের বোঝা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

  • পরিসংখ্যান অনুযায়ী-
    ২০১৪ সালে ঋণের পরিমাণ – ১৭.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা
  • ২০২৩ সালে ঋণের পরিমাণ – ৫৯.৬০ লক্ষ কোটি টাকা।

শুধু তাইই নয় ঋণের বোঝা মেটাতে নতুন করে আবার ঋণ নিতে হচ্ছে রাজ্যগুলিকে!

ঋণ কখন নেওয়া যায় ?

সাধারণত উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজ্যগুলি এতদিন ঋণ নিত। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন ।এখানে দেখা যাচ্ছে প্রশাসনিক কাজকর্ম অর্থাৎ কর্মীদের বেতন,পেনশান ইত্যাদির টাকা মেটানোর জন্য এবং স্রেফ ভাতা (Allowance) প্রকল্প চালানোর জন্য ঋণ নিতে হচ্ছে তাদের! আর এই ঋণের সুদ মেটানোর জন্য তাদের মোট আদায়ীকৃত রাজস্বের ২০% ব্যয় হচ্ছে । ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই টান পড়ছে উন্নয়নমূলক কাজে ।

ক্ষতি কোথায়?

খয়রাতির রাজনীতি সেখান থেকে বিপুল ঋণ, সেখান থেকে ঋণের সুদ মেটানো এবং আবার ঋণ নেওয়ার এই চক্রে সবচেয়ে ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার হাল অতি শোচনীয়। অনেক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে, যেগুলি আছে সেখানে শিক্ষক অপ্রতুল, নতুন নিয়োগ নেই । তার পিছনে অনেকাংশেই দায়ী করা যায় এই খয়রাতির (Allowance) রাজনীতিকে । প্রমাণ হিসেবে বলা যায় ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি বলছে, জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে খরচ করতে হবে। কিন্তু গত দুটি অর্থবর্ষে এই বরাদ্দ ৪.১ শতাংশের বেশি ছিল না।

এ তো গেল অর্থনীতির কথা, বসে বসে ভাতা(Allowance) পাওয়ার ফলে মানব সম্পদের যে ক্ষতি তার তো কোনো হিসেবই নেই ।ফলে কয়েক বছর পর যদি দেখা যায় কোনো সরকারি স্কুল কলেজের অস্তিত্ব নেই তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই অবস্থার জন্য দায়ী কে ? এর থেকে মুক্তিরই বা কী উপায়? ভাবতে হবে জনগণকেই ।

(সঞ্চিতা দে)

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন